ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

মুক্তিযোদ্ধা দলের আলোচনা সভায় মেজর হাফিজ

ভারত বাংলাদেশের বন্ধু হলে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৩২, ১৭ আগস্ট ২০২৪

ভারত বাংলাদেশের বন্ধু হলে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

ভারতকে উদ্দেশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আপনারা মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছেন, সে জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আপনারা প্রভু হওয়ার চেষ্টা করবেন না।  প্রভু না হয়ে বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে বিএনপি। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হাফিজ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে বাংলাদেশকে ভারতের গোলাম বানিয়ে ফেলেছে। ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, এখন আপনারা বাংলাদেশের জনগণের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করেন। তাহলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখবে। তিনি আরও বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের বন্ধু হয়ে থাকে তাহলে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে। কারণ, শেখ হাসিনা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাতক।
বঙ্গবন্ধুর মূর্তি ভেঙে ফেলার ঘটনা প্রসঙ্গে মেজর হাফিজ বলেন, আজকে একজন বড় মাপের নেতার মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়ে কাজ করব। আমরা আওয়ামী লীগের মতো হতে চাই না।
হাফিজ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সমর্থন করি। আমরা এই বিপ্লবের একটি সঠিক পরিণতি চাই। আওয়ামী লীগের মতো কোনো কলঙ্ক যাতে তাদের স্পর্শ করতে না পারে। 
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে অভিযোগ করে হাফিজ বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার। আর এখন মুক্তিযোদ্ধা এসে দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখে। দেশে এত মুক্তিযোদ্ধা এলো কীভাবে? আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রীরাও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়েছে। আমরা এখন আর কোনো ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দেখতে চাই না।
সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আগে ছাত্রলীগের মতো বক্তব্য দিলেও অবশেষে জনতার ডাকে সাড়া দিয়ে তারা মানুষের জন্য কাজ করেছেন। সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে সরানোর জন্য অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে। সেজন্য সেনাবাহিনীকে সাধুবাদ জানাই। তবে  শেখ হাসিনার নামে যে ক্যান্টনমেন্ট করা হয়েছে, অবিলম্বে সেটি বন্ধ করতে হবে। 
পুলিশকে উদ্দেশ্য করে হাফিজ বলেন, ১৬ বছরে এই বাহিনী যে ভূমিকা রেখেছে, এটা পৃথিবীর বুকে নিকৃষ্টতম। পুলিশ বাহিনীর যে সব সদস্য মারা গেছেন, এটার জন্য শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ দায়ী। অতি দ্রুত স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিডিআর বিদ্রোহের মামলার বিচার কাজ সম্পাদনের দাবি জানান মেজর হাফিজ।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া প্রসঙ্গে মেজর হাফিজ বলেন, আশা করছি খালেদা জিয়াকে আমরা বিদেশে পাঠাতে পারব। তিনি সুস্থ হয়ে দেশে এসে আগামীতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক দেশে গণহত্যা ও নির্যাতনের দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করা গেলে শেখ হাসিনাকেও বন্দিচুক্তির মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে। 
মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক প্রমুখ। আলোচনা সভায় মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে মন্তব্য করে এ দলটি নিষিদ্ধ করা, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বাতিল, আন্দোলনে শহীদের রাষ্ট্রীয় বীর ঘোষণা, আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।
দুলুকে কারণ দর্শানোর নোটিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে বিএনপি। শনিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত কারণ দর্শাও নোটিসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে। 
কারণ দর্শাও নোটিসে দুলুকে বলা হয় ‘টিভি ও পত্রিকায় শেখ হাসিনার ছবি ও বক্তব্য প্রচার করলে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে’ মর্মে আপনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আপনার এই বক্তব্য বিএনপির নীতি ও আদর্শের চরম পরিপন্থি।
কারণ দর্শাও নোটিসে আরও বলা হয়, বিএনপি দেশের একটি উদার ও বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারের ভয়াবহ নিপীড়ন ভোগ করেছে। সম্প্রতি কোমলমতি শিক্ষার্থী ও জনতা নিজেদের জীবন দিয়ে রক্তঝরা আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্রের জাগরণ সৃষ্টি করেছে।

আপনার বক্তব্য সেটিকে কালিমালিপ্ত করেছে। আপনার বক্তব্যটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অনভিপ্রেত এবং বিএনপির গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি কুঠারাঘাত। বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে আপনার এই বক্তব্য গত দেড় দশক ধরে রক্তস্নাত পথে বিএনপির নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মহিমাম-িত অবদানকে হেয় প্রতিপন্ন করার শামিল।
কারণ দর্শাও নোটিসের শেষ দিকে দুলুকে বলা হয়, আপনার উল্লেখিত বক্তব্যের কারণে কেন আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার কারণ দর্শিয়ে ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি লিখিত জবাব জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

×