ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখকে রাঙাতে আলপনা আঁকার মহাযজ্ঞ

প্রকাশিত: ১৬:৫৩, ১২ এপ্রিল ২০২৪

বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখকে রাঙাতে আলপনা আঁকার মহাযজ্ঞ

বিশ্বের সর্ববৃহৎ আলপনা আঁকার পরিকল্পনায় বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরারও একটি প্রয়াস

বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যের লোকধারার নান্দনিকতা প্রকাশের অন্যতম একটি মাধ্যম আলপনা। বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে প্রতি বছরই চিরায়ত নানান আয়োজনের পাশাপাশি দেশজুড়ে আঁকা হয় আলপনা। নববর্ষের আয়োজনে আলপনা আঁকা এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আলপনায় বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান ও অনুসঙ্গ তুলে ধরেন শিল্পীরা।  

লেপন করে করা কারুকার্যই হলো আলপনা। আলপনা শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ 'আলিমপদ' থেকে। এর অর্থ 'প্রলেপ দেওয়া'। সাধারণত একটি বা একাধিক রঙের সহজ বিমূর্ত রেখাচিত্র। বাংলাদেশের নানান উৎসবে বাড়ির চৌকাঠে, আঙিনায়, বিয়ের পিঁড়িসহ নানান কিছুতে সাদা আলপনার আঁকার চল চালু আছে অনেক আগে থেকেই। এক্ষেত্রে চালের গুঁড়ো দিয়ে আলপনা করা হতো, কারণ মনে করা হয় সাদা শুভ্রতা ও পবিত্রতার প্রতীক। এটাকে বলা যায় ক্ষণস্থায়ী লোকশিল্প। এছাড়াও সমাজে প্রচলিত নানাবিধ অনুষ্ঠান ও সাজসজ্জার জন্য আঁকা হয় আলপনা।   
এবার বাংলা নববর্ষে আলপনা উৎসবকে ভিন্নমাত্রা এনে দিতে “বাংলামি- উদযাপনের বহিঃপ্রকাশ”নামক ক্যাম্পেইনের আওতায় নানানরকম আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে উদ্ভাবনী ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। এরমধ্যে অন্যতম আয়োজন হলো, ১৪ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো আলপনা আঁকার এক মহাযজ্ঞ। এর মাধ্যমে বিশ্বের দীর্ঘতম আলপনা অঙ্কনকারী দেশ হিসেবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আলপনার স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কয়েক বছর আগে চালু হওয়া কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওড়ের বুক চিরে তৈরি হওয়া দৃষ্টিনন্দন সড়কটিকে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েক হাজার শিল্পী এই মহাযজ্ঞকে সফল করতে একনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে আলপনা আঁকার কর্মযজ্ঞ।

বর্ষায় জলবেষ্টিত ও শুকনা মৌসুমে সবুজের বিপুল সমারোহ থাকা এই অঞ্চলটি এরই মাঝে দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষের মাঝে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটির মাঝে এই উদ্যোগের ফলে স্থানটিতে ব্যপক পর্যটক সমাগমের হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই কর্মকান্ডকে সাফল্যমন্ডিত করতে বাংলালিংক-এর সাথে আরও রয়েছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ও এশিয়াটিক এক্সপেরিয়েনশিয়াল মার্কেটিং লিমিটেড। পহেলা বৈশাখের দিন, ১৪ এপ্রিল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মিঠামইন উপস্থিত থেকে এই কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও আয়োজকদের উৎসাহ দিবেন। 

সেই সঙ্গে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং খুলনার শিববাড়িতেও আঁকা হবে বৈশাখী আলপনা। সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট শিল্পীবর্গ এবং রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, শিল্পী ও সংস্কৃতিমনা জনসাধারণের অংশগ্রহণে মানিক মিয়া এভিনিউতে আলপনা অংকন কর্মসূচি ১৩ এপ্রিল রাতে শুরু হয়ে ১৪ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত চলবে। রাত ৮ টায় অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করবেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। 

অন্যদিকে আলপনা কর্মসূচিকে আরও মনোজ্ঞ করতে দেশের নানান প্রান্তের খাবারের স্টল, রাতব্যাপী সঙ্গীতের আয়োজন ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কন্টেন্ট প্রদর্শনের জন্য বড় পর্দার ব্যবস্থাও থাকছে। এছাড়াও বিভিন্ন পোশাক ব্র্যাণ্ড তাদের পসরা নিয়ে হাজির থাকবে অনুষ্ঠানস্থলে।   

বাংলালিংক সব সময় বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে ধারণ করে আসছে। এই রঙিন আলপনা উৎসবে অংশ নেওয়ার মাধমে বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস গড়ার অংশ হতে আমন্ত্রণ সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলালিংক।
বাঙালির যেকোনো উৎসবে অন্যতম অনুষঙ্গ হলো গান, তাই এই উৎসবের আয়োজনকে আরও আনন্দঘন করতে নতুন একটি গানও মুক্তি দিয়েছে বাংলালিংক। ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজের কন্ঠে বৈশাখের আনন্দে মেতে ওঠার আহবান জাগানিয়া এই গানটিতে চিরায়ত বাংলার উৎসবের সুরের আমেজ পাওয়া যায়। আদিত রহমানের সঙ্গীত পরিচালনায় মমতাজের সহশিল্পী হিসেবে গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন জোহাদ, দোলা ও আদিত রহমান।  

বৈশাখে 'বাংলামি' নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলালিংক-এর চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বিশ্ব দরবারে বাঙালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে তুলে ধরার বিষয়ে জোর দেন। তিনি বলেন, “আলপনা আঁকার এই ধারাটি উপমহাদেশের নিজস্ব শিল্প, তাই সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে ও বাংলার বর্ষবরণের অনন্য এই উৎসবকে তুলে ধরতে বাংলালিংক বিশ্বের সর্ববৃহৎ আলপনা আঁকার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সারা বিশ্বের কাছে বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরারও একটি প্রয়াস এটি।”

 

স্বপ্না

×