ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

বাড়ছে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের পরিধি

প্রকাশিত: ১৮:০০, ১ জুন ২০২৩

বাড়ছে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের পরিধি

ফাইল ছবি ।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম হাতিয়ার সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম। আর এরই লক্ষ্যে ২০২৩-২৪ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়ানো হয়েছে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের পরিধি। বৃহস্পতিবার ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল জানান, ২০০৯-১০ সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য যথাক্রমে ৪০.৬ ও ৬৮.২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তাই বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী অর্থবছরের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে যৌক্তিকভাবে সাজানো হয়েছে।

বেড়েছে বয়স্ক ভাতা: পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলোতে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫৭.০১ লাখ থেকে ৫৮.০১ লাখ জনে এবং মাসিক ভাতার হার ৫শ টাকা থেকে ৬শ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৪.৭৫ লাখ থেকে ২৫.৭৫ লাখ জনে এবং মাসিক ভাতার হার ৫শ টাকা থেকে সাড়ে ৫শ টাকায় উন্নীত হয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৫৪ হাজার জন হতে ১৩ লাখ ৪ হাজার জনে উন্নীত করার পাশাপাশি অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কার্যক্রমে উপকারভোগীর ভাতার হার দৈনিক ২শ টাকার পরিবর্তে ৪শ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভাতাভোগী ও ভাতার সংখ্যা পরিবর্তন ছাড়াও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে লক্ষ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য একে জি-টু-পি পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানানো হয়।

২৯ লাখ প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন: প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৩.৬৫ লাখ থেকে ২৯ লাখ জনে বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ডাটাবেজের আওতাভুক্ত সকলকে এ ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ছাত্র/ছাত্রীদের মাসিক শিক্ষা উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে সাড়ে ৭শ টাকা থেকে ৯শ টাকায়, মাধ্যমিক স্তরে ৮শ টাকা থেকে সাড়ে ৯শ টাকায় এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৯শ টাকা থেকে সাড়ে ৯শ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮১৫ জন হতে ৬ হাজার ৮৮০ জনে উন্নীত এবং বিশেষ ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ জন হতে ৫ হাজার ৬২০ জনে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শ্রম থেকে মুক্তি পাবে ২৮০০ শিশু: শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২১-২৫ চূড়ান্ত করেছে সরকার। এ পরিকল্পনায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কর্মরত শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৮০০ জন হ্রাস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ আটটি খাতকে ‘শিশু শ্রম মুক্ত’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত এক লাখ শিশু শ্রমিককে উপানুষ্ঠানিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২১-২৫ চূড়ান্ত করেছি। এ পরিকল্পনায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কর্মরত শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৮০০ জন হ্রাস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ আটটি খাতকে ‘শিশু শ্রম মুক্ত’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শিশুদের জন্য কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে শিশুকক্ষ স্থাপন কার্যক্রম পূর্বের ধারাবাহিকতায় অব্যাহত থাকবে।

বাড়লো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাসিক উপবৃত্তি: এবারের বাজেটে প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক শিক্ষা উপবৃত্তির হার বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক স্তরে উপবৃত্তি ৭৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা করা হয়েছে। অপরদিকে মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৯০০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা করা হয়েছে প্রতিবন্ধী ডাটাবেজের আওতাভুক্ত সকলকে এ ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৩.৬৫ লাখ থেকে ২৯ লাখ জনে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য প্রস্তাবনা: অনগ্রসর জনগোষ্ঠীল জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৯ হাজার ৫৭৩ জন থেকে ৮২ হাজার ৫০৩ জনে বৃদ্ধি করা এবং বিশেষ ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ২৫০ জন থেকে ৫৪ হাজার ৩০০জনে উন্নীত করা। এছাড়া উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ২১ হাজার ৯০৩ জন থেকে ২৬ হাজার ২৮৩ জনে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৫৪ হাজার জন থেকে ১৩ লাখ ৪ হাজার জনে উন্নীত করা হয়েছে। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কার্যক্রমে উপকারভোগীর ভাতার হার দৈনিক ২০০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জি-টু-পি:

ভাতাভোগী ও ভাতার সংখ্যা পরিবর্তন ছাড়াও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে লক্ষ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য একে জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পার্সন) পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রস্তাবনাকালে বলেন, ইতোমধ্যে ২৫টি ক্যাশভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যে ২২টি কর্মসূচির অর্থ এ পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাব/মোবাইল ব্যাংক হিসেবে পাঠানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে অবশিষ্ট ক্যাশভিত্তিক কর্মসূচিগুলোকে জি-টু-পি পদ্ধতির আওতায় আনা হবে। বর্তমানে ৮০ শতাংশের বেশি ক্যাশভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা জি-টু-পি পদ্ধতিতে প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 
 

 

স্বপ্না

×