ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৬ জুন ২০২৪, ১৩ আষাঢ় ১৪৩১

আহত ১৫৭॥ টিটিপির দায় স্বীকার

পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী বোমায় নিহত ৫৯

জনকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:১৫, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩; আপডেট: ০২:১০, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩

পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী বোমায় নিহত ৫৯

পাকিস্তানের পেশোয়ারে মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের পর উদ্ধারকৃত লাশ সরিয়ে নিচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ারের পুলিশ লাইন্স এলাকায় মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার জোহরের নামাজের সময় এ হামলায় অন্তত ৫৯জন নিহত এবং ১৫৭ জন আহত হয়েছেন। দেশটির নিষিদ্ধঘোষিত সশস্ত্রগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। খবর ডন ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
বিস্ফোরণস্থলের আশপাশের সব সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইসলামাবাদেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে মসজিদে বিস্ফোরণের এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরণ প্রমাণ করে হামলায় জড়িতদের ইসলামের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। মসজিদে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেছেন, এই সন্ত্রাসীরা ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। 
দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইমরান খান এক টুইট বার্তায় এ ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী আত্মঘাতী হামলা উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন। হতাহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন তিনি। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জিও নিউজ জানিয়েছে, সোমবার জোহরের নামাজের সময় পুলিশ লাইন্স এলাকার মসজিদের সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন আত্মঘাতী হামলাকারী।

বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। পুলিশ বলছে, বিস্ফোরণে মসজিদের ইমাম সাহেবজাদা নূর উল আমিনও মারা গেছেন। হামলার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শনে যান। বিস্ফোরণে মসজিদের একাংশ ধসে যাওয়ায় অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচ চাপা পড়েছেন। 
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পেশোয়ার পুলিশের কর্মকর্তা এজাজ খান বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক পুলিশ সদস্য আটকে রয়েছেন। যে কারণে হতাহতের ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছি। তবে মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরকের গন্ধ পাওয়া গেছে। যে এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে সেখানে পেশোয়ার পুলিশ, সিটিডি, এফআরপি, এলিট ফোর্স এবং টেলিযোগাযোগ বিভাগের সদর দপ্তর রয়েছে। বিস্ফোরণে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করে পেশোয়ারের কমিশনার রিয়াজ মেহসুদ বলেন, মসজিদের ভেতরে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।

অনেকেই মসজিদের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। রিয়াজ মেহসুদ বলেন, শহরের সব হাসপাতালে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। বিস্ফোরণে আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। মসজিদে বিস্ফোরণে আহতদের উদ্ধার করে পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের রক্তদান সহায়তায় এগিয়ে আসতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 
খাইবার পাখতুনখোয়ার তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ আজম খান পেশোয়ারের সব হাসপাতালে চিকিৎসা বিষয়ক জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধারকারী সব সংস্থাকে ত্রাণ তৎপরতার গতি ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, বিস্ফোরণের সময় তিনি মসজিদে যাচ্ছিলেন।  বিস্ফোরণের পর সর্বত্র ধোঁয়া উড়ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী আরও বলেন, মসজিদের ভেতরে ২০০ জনের বেশি মানুষ নামাজ আদায়ের সময় বিস্ফোরণটি ঘটেছে। এটা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ। কারণ বোমা হামলাকারী মসজিদের ভেতরে ছিলেন।

নামাজ শুরু হওয়া মাত্রই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, বিস্ফোরণের কারণে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরে চেতনা ফেরার পর দেখেন, মসজিদের ছাদ ধসে গেছে। মসজিদটিতে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন সিভিল সেক্রেটারিয়েট অ্যাসোসিয়েশন পেশোয়ারের সভাপতি তাসাভুর ইকবাল। তিনি বলেন, পুলিশ লাইন্স এলাকায় সবসময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরিচয়পত্র এবং দেহ তল্লাশি ছাড়া কেউই এই মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন না। তিনি বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা অনেক বড় মসজিদ। একসঙ্গে ৪০০-৫০০ মানুষ নামাজ পড়তে পারেন।

×