ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু সুশাসন শক্তিশালীকরণে স্থানীয় জনগণের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান

প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫; আপডেট: ১৭:৪০, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু সুশাসন শক্তিশালীকরণে স্থানীয় জনগণের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান

ছবি: জনকণ্ঠ

তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু সুশাসন শক্তিশালী করতে হলে বিদ্যমান ‘টপ-ডাউন’ পদ্ধতির পরিবর্তে ‘বটম-আপ’ বা নিম্নমুখী থেকে ঊর্ধ্বমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকার সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নাগরিক সংগঠন ‘ওয়েভ ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত এক জাতীয় সিম্পোজিয়ামে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (WRI)-এর সহযোগিতায় এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার ৪টি উপজেলা ও ৩২টি ইউনিয়নে জলবায়ু সুশাসন বিষয়ক একটি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত সামাজিক নিরীক্ষায় দেখা গেছে, জলবায়ু সুশাসনে তৃণমূল পর্যায়ে এখনো ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে, যা দূর করতে জেন্ডারভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

সিম্পোজিয়ামের প্রথম পর্বে ‘স্থানীয় অংশীদারিত্ব উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আইন অধিশাখা) শাহানারা ইয়াসমিন লিলি। আলোচনায় উঠে আসে যে, উপকূলীয় অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার সাথে স্থানীয় বাস্তবায়নের সমন্বয়হীনতা দূর করা এবং ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অর্থনৈতিক ও কারিগরিভাবে স্বনির্ভর করার ওপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় প্রশংসনীয় হলেও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘জলবায়ু অভিবাসন ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা’ নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু অভিবাসন শব্দটি দেশের বিদ্যমান আইনে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সকলের জন্য নিরাপদ স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। সামাজিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিম্পোজিয়ামে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ওয়ার্ড সভার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা, উন্মুক্ত বাজেট সভার মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা। ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তাও এই আলোচনায় জোরালোভাবে উঠে আসে।

উপসংহারে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে থাকলেও দায়ী রাষ্ট্রগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালন করছে না। এমতাবস্থায় আমাদের নিজস্ব জলবায়ু বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং কাজের জবাবদিহিতা ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন কর্মী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং তরুণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যারা সম্মিলিতভাবে একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এসইউ

×