ছবি: জনকণ্ঠ
জলবায়ু অর্থ প্রাপ্তির সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে পর্যায়ক্রমে সরে আসার রোডম্যাপ ছাড়া বেলেম চুক্তি (কপ-৩০) চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস বাধ্যতামূলক না করে স্বেচ্ছায় করার আহ্বান বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের মূল কারণকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার বাস্তবসম্মত উপায়ের অভাবে বিশ্ব এখন ৩ ডিগ্রি উষ্ণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রস্তাবিত ট্রিপল অভিযোজন অর্থায়ন লক্ষ্য ২০৩০ থেকে ২০৩৫ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা উন্নত বিশ্বের দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল। তাদের লক্ষ্য সহযোগিতা নয়; বরং জলবায়ু অর্থায়নকে ঋণ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। ফলে বাংলাদেশের মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর টিকে থাকার সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। তাই দেশের উচিত নিজস্ব সম্পদের উপর নির্ভর করে শক্তিশালী স্থানীয় অভিযোজন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
সোমাবার (০১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে “কপ-৩০ এর ফলাফল এবং বাংলাদেশে করণীয়” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়। কোস্ট ফাউন্ডেশন, কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (সিপিডি), সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), ইক্যুইডিবিডি, সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম (বিসেজেএফ) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর যৌথ আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ইক্যুইডিবিডি’র চিফ মডারেটর ও কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক এম রেজাউল করিম চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর এম. এ. হাসান।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বরাবরের মতো এবারও এলডিসি ও এমভিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট আর্থিক প্রতিশ্রুতি আসেনি। ভবিষ্যতেও আসার সম্ভাবনা কম। যা পাওয়া যাবে তার বেশিরভাগই ঋণনির্ভর। তাই দেশের বৃহৎ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নিজস্ব সম্পদের উপর ভিত্তি করে স্থানীয় অভিযোজন ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
সামসুদ্দোহা বলেন, ৫৯তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চুক্তি বাস্তবায়নের কোনো রাজনৈতিক অঙ্গীকার নেই। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে শুধু আলোচনার কথা বলা হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয়—সম্মেলনের বাইরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ব্রাজিলের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত ‘ট্রপিক্যাল ফরেস্ট ফরেভার ফ্যাসিলিটি’ও একধরনের নতুন ঋণ কাঠামো। দক্ষ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
শরীফ জামিল বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত না হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কীভাবে কমবে? ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেই এনডিসি-০৩ জমা দেয়নি, অথচ তারাই এনডিসি পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা করছে—যা অত্যন্ত অযৌক্তিক।
জাহাঙ্গীর হাসান মাসুম বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে আলোচনাকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লবিস্টদের প্রভাবে জলবায়ু আলোচনা এখন কর্পোরেটমুখী হয়ে উঠছে।
কাউসার রহমান বলেন, সময় এসেছে জলবায়ু ন্যায়্যতার ভিত্তিতে সম্মেলন প্রক্রিয়া সংস্কারের। মোতাহার হোসেন বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর চাহিদাভিত্তিক কাঠামো দাবি অব্যাহত রাখতে হবে।
মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, কার্বন ট্রেডিং থেকে প্রত্যাশিত লাভ কখনোই আসবে না; এটি অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
এম. এ. হাসান বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের সিংহভাগ আসে ঋণ হিসেবে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী প্রতি ৫ ডলারের বিপরীতে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে ৭ ডলার। বাংলাদেশের মাথাপিছু জলবায়ু ঋণের পরিমাণ ৮০ ডলার। তাই ঋণনির্ভর পরিকল্পনা থেকে সরে এসে ব্লু-ইকোনমির উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
শহীদ








