বাংলাদেশে আজ বৃহস্পতিবার আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে হওয়া এই কম্পনের কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশাল অঞ্চল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ভূমিকম্প থেমে গেলেও ঝুঁকি তৎক্ষণাৎ কমে যায় না। ভূ-পৃষ্ঠের নিচে জমে থাকা চাপ স্থিতিশীল না হওয়ায় যে ছোট ছোট কম্পন পরবর্তীতে ঘটে, সেগুলোকেই বলা হয় ‘আফটারশক’, যা মূল ভূমিকম্পেরই ক্ষুদ্র ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ভূগর্ভে তৈরি হওয়া ফাটল একবারে পুরোপুরি শান্ত হয় না। সেই ফাটলের মধ্য দিয়ে সময়ক্রমে ছোট শক্তির মুক্তি ঘটে—ফলে রিখটার স্কেলে কম তীব্রতার ভূমিকম্প ধরা পড়ে। কখনো কয়েক মিনিটের মধ্যেই আফটারশক দেখা দেয়, আবার কখনো কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পরও তা হতে পারে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বড় ভূমিকম্পের পর আফটারশক কয়েক সপ্তাহ, কখনো কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর ধরে চলতে পারে। তবে সময় যত এগোয়, এসব কম্পনের তীব্রতা ও ঘনত্ব কমে আসে। আফটারশকের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়—একবার থেকে শুরু করে শত বা হাজারবারও হতে পারে।
ভূমিকম্পের শক্তি, ভূমির গঠন আর ভূগর্ভস্থ চাপ—এসব কিছুর ওপর নির্ভর করে আফটারশকের মাত্রা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব। বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে সাধারণত আফটারশকও বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হলো প্রথম ৭২ ঘণ্টা। এই সময়েই অধিকাংশ আফটারশক ঘটে। তাই খোলা জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে অনুমতি ছাড়া না ঢোকার সতর্কতা দেওয়া হয়। দুর্বল ভবনগুলো ছোট আফটারশকেও ভেঙে পড়তে পারে, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সুতরাং বড় কম্পন থেমে গেলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি শেষ হয় না; বরং আফটারশকই পরবর্তী বিপদের মূল উৎস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী সময়েই সর্বাধিক সতর্ক থাকা জরুরি।
এ ছাড়া, বিজ্ঞানীরা এখনও পূর্বাভাস দিয়ে ভূমিকম্প সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে পারেন না। দীর্ঘ গবেষণার পরও নির্ভুল ভূমিকম্প পূর্বাভাস প্রযুক্তি এখনো উদ্ভাবিত হয়নি এবং নিকট ভবিষ্যতেও তা সম্ভব হবে এমন আশা খুব কম।
Jahan








