ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ॥ প্রস্তুতি কেমন

শাফিন রাহমান

প্রকাশিত: ০০:৫৮, ২৩ জুন ২০২৪

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ॥ প্রস্তুতি কেমন

বিদেশে উচ্চশিক্ষা

‘জ্ঞান অর্জনের জন্য যদি সুদূর চীন দেশেও যেতে হয়, তবে সেখানে যাও।’ এরকম একটি বাণীর সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। এটি জ্ঞানার্জনে উৎসাহমূলক একটি বাক্য। মূল কথা হলো, যেখানে জ্ঞানের সন্ধান পাও সেখানেই ছুটে যাও। আর জীবনের যে কোনো ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎকর্ষ সাধনের কোনো বিকল্প হয় না। বর্তমান বাস্তবতায় জ্ঞানার্জন, উন্নত ক্যারিয়ার গঠন ও উত্তম জীবনযাত্রার উৎকৃষ্ট নির্ণায়ক হলো বিদেশে উচ্চশিক্ষা। সে জন্য প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান তাদের স্বপ্নের দেশে।

বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে প্রবেশের প্রথম দিনটির পেছনে থাকে শত পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা। এ জায়গায় ঘাটতি থাকলে পুরো পরিকল্পনা বিফলে যেতে পারে। যে যে ধাপ অনুসরণ করা যেতে পারে তা হলো-
সংকল্প এবং পরিকল্পনা : সবার আগে যে বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে তা হলো, দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে মনস্থির করা। সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক দিক হলেও পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনের সময় এর প্রভাব পড়ে থাকে। যেহেতু এখানে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের পরীক্ষা দিতে হয়, তাই মানসিক ও শারীরিক শ্রমের পাশাপাশি একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সময় ও অর্থের খরচ করতে হয়।

এ ক্ষেত্রে প্রথমেই যেকোনো সম্ভাব্য কার্যক্রমের জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য মনস্থির করা আবশ্যক। আর এর মনস্থির হওয়া সামনের প্রতিটি কাজের জন্য পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে। অনেকের ক্ষেত্রে এই সংকল্প ও পরিকল্পনার যুগপৎ ক্রমবিকাশ ঘটে ব্যাচেলর ডিগ্রি নেওয়ার শুরু থেকেই।
ভাষার দক্ষতা পরীক্ষা : ভাষার দক্ষতার ক্ষেত্রে বিশেষ করে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই বিদেশে উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা প্রমাণের প্রথম ধাপ। অধিকাংশ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজন হয় ইংরেজি ভাষার। ইউরোপের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অন্য ভাষাতে দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন হয়। এগুলোর মধ্যে প্রধান ভাষাগুলো হলো ম্যান্ডারিন চায়নিজ, জার্মান, ফরাসি, আরবি ও জাপানিজ।
গবেষণা, বিশ্লেষণ ও নির্বাচন : আগে পরিকল্পনার খসড়াকে পরিপূর্ণ রূপদান করতে পারে এই বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা। এটি মূলত কোনো পর্যায়ক্রমিক ধাপ নয়; বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে এ গবেষণা প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে কোর্স, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের অবস্থানগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। কোর্সের ভেতরে কী কী অন্তর্ভুক্ত আছে, নির্দিষ্ট বিষয়টি নিয়ে গবেষণার সুযোগ, ক্যাম্পাসের জীবন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাগুলো যাচাই করতে হবে। এর জন্য ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সেমিনার, কাউন্সেলিং খুব কাজে লাগে।
একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন : যাদের সিজিপি ভালো, তারা একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে থাকেন। একাধিক আবেদনের মূলে থাকবে চূড়ান্ত শিক্ষাবর্ষের থিসিস বা প্রোজেক্ট পেপার। গুরুত্বপূর্ণ নথিটির মাধ্যমে আরও ভালোভাবে অল্পকথায় পরিবেশন করতে হবে থিসিসের সম্ভাবনাময় দিকগুলো। এ আবেদনের মুহূর্তে প্রথম খেয়াল রাখতে হবে ভর্তির প্রয়োজনীয় নির্দেশনাগুলো ঠিকভাবে পড়া হচ্ছে কি না। আবেদন সফল হওয়া এই নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে অনুসরণের ওপর নির্ভরশীল।
ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা : ইতোমধ্যে যে দেশ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার জন্য ঠিক করার হয়েছে; এবার তার জন্য আনুষঙ্গিক খরচ জোগাড়ের পালা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশে টিউশন ফির পরিমাণ অনেক বেশি। পড়াশোনা করার সময় কাজ করা যেতে পারে, কিন্তু শুধু খ-কালীন চাকরি করে পড়াশোনার খরচ বহন সম্ভব নয়। তা ছাড়া এটি পড়াশোনায় চাপের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজের জন্য প্রতি সপ্তাহে সীমিত সংখ্যক ঘণ্টা বরাদ্দ থাকে।
ভিসা প্রসেস : যে দেশে পড়াশোনার জন্য চেষ্টা চলছে, সে দেশে যাওয়ার জন্য এবার অনুমতি নেওয়ার পালা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে সংক্ষিপ্ত ভাষা কোর্সে কখনো কখনো ট্যুরিস্ট ভিসায় অধ্যয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তিন মাসের বেশি সময় ধরে প্রায় সব কোর্সের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হবে।
আবাসনের ব্যবস্থা করা : কিছু বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রোগ্রামে ভর্তি বাবদ শিক্ষার্থীদের আবাসন সরবরাহ করে বা ভালো পরিমাণের বৃত্তি পাওয়া গেলে তাতে আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের আবাসনের ব্যবস্থার সময় শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। তাই থাকার জায়গাটি নিজের দেশ থেকে ঠিক করে যাওয়া উত্তম। 
ভ্রমণের প্রস্তুতি : সবকিছুর প্রস্তুতি শেষ; এবার সময় হলো বিমানে ওঠার। যতটা সম্ভব আগেভাগে বিমানের টিকিট করে রাখা ভালো। এতে টিকিটের খরচ বাঁচানো যায়। টিকিটের জন্য বাতিল বা পরিবর্তন নীতিগুলো যাচাই করে নিতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কবে শুরু হবে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তার আগে যথেষ্ট সময় রেখে সে দেশে পৌঁছাতে হবে।

×