ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৮ মে ২০২৩, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০

ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বহিষ্কার, ৩ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত: ২২:৫৭, ২৩ আগস্ট ২০২০

ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বহিষ্কার, ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর, ২২ আগস্ট ॥ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীমের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদিকে সংগঠনের নীতি আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকা-ে জড়িত থাকায় ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেফতার হওয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে শনিবার দুপুরে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটান আদালতে সোপর্দ করে সিআইডি। আদালত শুনানি শেষে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সত্যতা নিশ্চিত করে সিআইডির দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ঢাকা মেট্রোপলিটান পশ্চিম, বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি, ঢাকা) সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস বলেন, শনিবারই শামীমকে আদালত থেকে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় রিমান্ডের জন্য। সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস আরও বলেন, মানি লন্ডারিং মামলায় আগে গ্রেফতার হওয়া ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার, ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন ও শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহানের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়ে আছে। ওই তিনজন বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। আজ রবিবার তাদেরও রিমান্ডের জন্য কারাগার থেকে নিয়ে আসা হবে। এদিকে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীম ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। শনিবার কেন্দ্রীয় সংসদের নির্বাহী সংসদের প্যাডে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরী সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, সংগঠনের নীতি আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকা-ে জড়িত থাকায় নিশান মাহমুদ শামীম (সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ফরিদপুর শাখা) ও মোঃ সাইফুল ইসলাম জীবনকে (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ফরিদপুর শাখা) বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হল। প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে রাতে ফরিদপুর শহরের মোল্লা বাড়ি সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুবল সাহা গত ১৬ মে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত ৭ জুন পুলিশের বিশেষ অভিযানে ওই মামলার আসামি হিসেবে ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ নয়জনকে গ্রেফতার করে। গত ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে গত ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় মানি লন্ডারিং এর অভিযোগ এনে বরকত ও রুবেলকে আসামি করে দুই হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিং এর অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মানি লন্ডারিং এর ওই মামলায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকার উত্তরা এলাকার ১২ নম্বর সেক্টর থেকে গ্রেফতার করা হয় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীমকে। মানি লন্ডারিং মামলায় এ পর্যন্ত বরকত ও রুবেলসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আলিমুজ্জামান বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে হামলার মামলাসহ চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে সাইফুল বর্তমানে পলাতক রয়েছে।