রবিবার ৫ আশ্বিন ১৪২৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

প্রাণভয়ে মুসলিমরা দিল্লী ছাড়ছে

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও নাগরিক পঞ্জিকা নিয়ে এখন উত্তাল ভারত। চলমান সহিংসতার জেরে দিল্লী থেকে চোখে পানি নিয়ে ঘরবাড়ি ছাড়তে শুরু করে মুসলিমরা। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি একটু শান্ত হলেই ঘরবাড়ি ছেড়ে মুসলিমরা বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। মুসলিমদের পাশাপাশি অনেক হিন্দুও বাড়ি ছেড়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকা।

উত্তর-পূর্ব দিল্লীর খাজুরি খাস শহরে প্রথম এ অবস্থা দেখা যায়। এ শহরের চার নম্বর গলির মুখটায় দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন ৬৫ বছর বয়সী মহম্মদ তাহির। কাঁদছিলেন পাশে দাঁড়ানো তার দুই পুত্রবধূও। গলির মুখ থেকে তাদের বাড়িটা ছিল চার-পাঁচেক বাড়ির পরেই। হামলাকারীদের ছোঁড়া আগুনে গোটা বাড়ি এখন ছাই হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে হাজারখানেক যুবক ঢুকেছিল তাহিরদের গলিতে। তাদের হাতে ছিল বন্দুক, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র। গলিতে ঢুকেই তারা মারধর শুরু করল সেখানকার বাসিন্দাদের। ঘরে ঘরে ঢুকে লুটপাট চালায়। তারপর প্রতিটা বাড়িতে আগুন লাগাতে থাকে। লোকজন যে বাড়িগুলোর ভেতরে রয়েছেন, তার পরোয়াই করেনি তারা। এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন ভুক্তভোগী মুসলিম তাহির। বাড়ি দাউদাউ করে জ্বলছে দেখে প্রাণে বাঁচতে আর কয়েক জন প্রতিবেশীর ন্যায় তিনিও তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে উঠে যান ছাদে। তার পর এক এক করে সেই ছাদ থেকে পাশের বাড়ির ছাদে ঝাঁপ দেন। এভাবে হামলাকারীদের থেকে বাঁচতে অন্যান্যদের নিয়ে ছাদ টপকে টপকে প্রাণে বাঁচেন তাহিররা। অনেক কষ্টে বানিয়েছিলেন বাড়িটা। তাই বুধবার বিকেলে দুই পুত্রবধূকে নিয়ে বাড়িটা দেখতে এসেছিলেন তাহির। গিয়ে দেখেন, গোটা বাড়িটাই ছাই হয়ে রয়েছে। পাশের বাড়িটারও একই দশা। তার পরেরটাও। যা দেখার পর আর চোখের জল চেপে রাখতে পারেননি তারা। গলির মুখে এসে কাঁদতে কাঁদতে বার বার পেছনে ফিরে ছাই হয়ে যাওয়া বাড়ির দিকে তাকাচ্ছিলেন। আর দাগিয়ে থাকতে পারেননি। দুই পুত্রবধূকে নিয়ে চার নম্বর গলির মুখেই বসে পড়েছিলেন তাহির। ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাহির বলেন, ‘ওরা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিল। আমরা প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করলাম। আমার স্ত্রী পঙ্গু হওয়ায় সে পারল না। আমার দুই ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুই আমরা খাইনি।’ অগ্নিসংযোগের হাত থেকে রেহাই পায়নি গলির হিন্দু বাসিন্দাদের ঘরবাড়িও। খাজুরি খাসের চার নম্বর গলিতে যত মুসলিম পরিবার থাকতেন, মঙ্গলবার গভীর রাতের ভয়াবহ ঘটনার পর তারা সকলেই সেখান থেকে অন্যত্র পালিয়ে যান। এই অবস্থা শুধু খাজুরি খাসের নয়, একই অবস্থা মৌজপুর বাবরপুর ও ভাগীরথী বিহারের গলিগুলোর। কোন মুসলিম পরিবার আর সেখানে নেই। স্থানীয়রা জানান, ‘এমন ভয়াবহ ঘটনা এর আগে দেখিনি। ওদের সকলের হাতে ছিল বন্দুক, লাঠি, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র। ওরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিচ্ছিল।

শীর্ষ সংবাদ:
২৮ সেপ্টেম্বর সাহেদের অস্ত্র মামলার রায় ঘোষণা         সীতাকুণ্ডে ট্রাকের চাপায় এসআই নিহত         বুয়েটের আবরারের বাবা অসুস্থ, সাক্ষ্য গ্রহণ ৫ অক্টোবর         সংক্রমণ ছাড়াল ৫৪ লাখ ॥ জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মোদি         করোনা ভ্যাকসিনের তথ্য চুরি করেছে চীনা হ্যাকাররা ॥ স্পেন         বাংলাদেশ ছাড়লেন ড. বিজন কুমার শীল         থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্রের ক্ষমতা খর্ব করার দাবিতে বিশাল মিছিল         খালেদা জিয়ার আরও চার মামলার স্থগিতাদেশ আপিলে বহাল         স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়ি চালক মালেককে আটক করেছে র‌্যাব         লকডাউনের পর উহানে দেখা দিয়েছে ভরসার নতুন সূর্য         সিরিয়ায় বাড়তি সেনা মোতায়েন ॥ ফের উত্তেজনা রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের         তালেবান ঘাঁটিতে বিমান হামলা ॥ নিহত ১২         করোনায় প্রতিটি মৃত্যুর দায় ট্রাম্পের ॥ জো বাইডেন         বিশ্বে করোনায় মৃত্যু সাড়ে ৯ লাখ ৫৫ হাজার         ট্রাম্পকে পাঠানো চিঠিতে রাইসিন বিষ         পৃথক পতাকা ও সংবিধানের দাবি এনএসসিএন’র ॥ নয়া বিড়ম্বনা মোদি         অস্ত্র কেনার সীমাবদ্ধতা অক্টোবরের শেষ নাগাদ উঠে যাবে ॥ ইরান         যুক্তরাষ্ট্রে পার্টিতে বন্দুকধারীর হামলা ॥ নিহত ২, আহত ১৪         নতুন চ্যানেল দিয়ে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু         ভারত মহাসাগরে চীনের জাহাজ, বাড়ছে উত্তেজনা