মঙ্গলবার ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ০৭ জুলাই ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

ইলিশের অভয়াশ্রম আন্ধারমানিক নদী দূষণের কবলে

ইলিশের অভয়াশ্রম আন্ধারমানিক নদী দূষণের কবলে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া ॥ দখল দূষণের কারণে আন্ধরমানিক নদী তার নিজস্বতা হারিয়ে ফেলছে। কোন কিছুতেই থামছেনা দখল-দূষণ। এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ইলিশের অভয়াশ্রম আন্ধারমানিক নদী দখল-দূষণে গ্রাস করে ফেলার শঙ্কা রয়েছে। সাগর মোহনা থেকে উঠে আসা ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্ধারমানিক নদীর অপর প্রান্ত মিলেছে রামনাবাদ নদীতে। দক্ষিণের সবচেয়ে গুরুত্ববহনকারী এ নদীতে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এছাড়া আন্ধারমানিক নদীর নীলগঞ্জ ও কলাপাড়া এলাকাজুড়ে ইটভাঁটি গড়ে উঠেছে। শহর এলাকায় বর্জ্য আবর্জনা ফেলার পাশাপাশি তোলা হয়েছে অসংখ্য স্থাপনা। শহরের কাঁচামাল ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ তাদের নিত্যদিনের বর্জ্য-আবর্জনা নদীতে ফেলছে। প্রমত্তা আন্ধারমানিক এখন ক্রমশ পরিণত হচ্ছে একটি স্বাভাবিক জোয়ার-ভাঁটা বহমান মরা নদীতে। ক্রমশ পলিতে ভরাট হয়ে নদীতে এখন লঞ্চসহ নৌযান চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। একসময় লঞ্চ-স্টীমারের হুইসেলে সরব থাকত এ নদী। প্রবীণ মানুষের কাছ থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে সকাল-সন্ধ্যা হাজারো নৌযান এ নদীপাড় কলাপাড়ায় ভিড়ত। প্রবল ¯্রােত ও ঢেউয়ে কোন না কোন নৌযান ডোবার ঘটনা ছিল স্বাভাবিক বিষয়। কালের প্রবাহে জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাবে পলির আস্তরণে ভরাট হয় এ নদীর তলদেশ। নদীর সঙ্গে সংযোগ থাকা বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরে স্লুইস সংযুক্ত খালে পানির প্রবাহ থমকে গেছে। ইলিশের বাড়িখ্যাত এ নদীতে অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়। সরকারিভাবে নদীটির গুরুত্ব রয়েছে। এখন এ নদীটি যৌবনহারা হয়ে গেছে। তারপরও দক্ষিণের সাগরপাড়ের জনপদে কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে নদীটির ভুমিকা অপরিসীম। হাজারো জেলেসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করছে এ নদীকে ঘিরে। নদীটির নব্যতা হারানোর জন্য প্রকৃতি যতোটা না দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী মানুষ। মানুষ যথেচ্ছা ময়লা-আবর্জনা ফেলছে নদীতে। খোদ কলাপাড়া পৌরসভার লোকজন ময়লা ফেলছে। এর সঙ্গে দখল চলছে। এ বছরের ৩১ জানুয়ারি আন্ধারমানিক নদী তীর দখল করে পাকা বহুতল স্থাপনা তোলার দায়ে দুই ব্যবসায়ী জাকির হোসেন (৪০) ও মো. মাহতাবকে (৪৮) দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়। একই সঙ্গে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপ দাশের নেতৃত্বে গঠিত ভ্রাম্যমান আদালত এ দন্ড দিয়েছেন। অনুপ দাশ আরও জানান, এ পর্যন্ত দখলদারদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। যদিও আন্ধারমানিক নদী তীর সংরক্ষণে কিছু কিছু কর্মকান্ড শুরু হয়েছে। হেলিপ্যাড মাঠ ঘেঁষা স্পটে একটি ওয়াকিং জোন করা হয়েছে আন্ধারমানিক নদী তীর বরাবর। প্রায় দেড় শ’ মিটার এলাকা নদীতীর সংরক্ষণের ও সৌন্দর্যবর্ধনের এ কাজটি করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। সেখানে ১৯টি বসার বেঞ্চি করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুনিবুর রহমান জানান, গত মাসের (জুন) খাস জমি ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আন্ধারমানিক নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নদী তীরের খাস জমি দখল করে কেউ ইটভাঁটা করলেও তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন এ কর্মকর্তা। নদী রক্ষায় তীরের পলি মাটিতে জন্মানো ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছপালা রক্ষায় উদ্যোগ নেয়ার কথাও তিনি জানালেন।

শীর্ষ সংবাদ:
উন্নত ব-দ্বীপের স্বপ্ন ॥ নদীমাতৃক বাংলাদেশ         রিজার্ভ থেকে ঋণ নেয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর         চলে গেলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর         বিএনপির মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা হাস্যকর ॥ কাদের         হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতা ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রে         ঈদে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধের চিন্তাভাবনা         শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট দিতে আলোচনা চলছে         বন্দুকযুদ্ধে কুড়িলে ২ ছিনতাইকারী নিহত         সাইবার মামলা তদন্তে সিআইডির থানা হচ্ছে         ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের এমডি ও পরিচালক গ্রেফতার         এন্ড্রু কিশোর তার গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন : প্রধানমন্ত্রী         এন্ড্রু কিশোর আর নেই         উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য রিজার্ভ থেকে ঋণ নেয়া যেতে পারে : প্রধানমন্ত্রী         বিরল বন্দরকে দেশের এক নম্বর রেলবন্দরে রূপান্তরের কাজ করা হচ্ছে ॥ রেলমন্ত্রী         আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা         ভ্যাটের সনদ প্রতিষ্ঠানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে         শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট দিতে শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান         দারুল আরকাম মাদ্রাসা চালুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি         প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার ৯০০ টন চাল বরাদ্দ         থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে সাহারা খাতুন        
//--BID Records