ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ব্যক্তিগত সাফল্যে পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৫:৩০, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ব্যক্তিগত সাফল্যে পিছিয়ে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্রথম টেস্টে জেতার পর অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জা দেয়া গেছে। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া এমনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যে সিরিজ হাতছাড়া হয়নি। আবার দ্বিতীয় টেস্টে অসি ক্রিকেটাররা এমন নৈপুণ্যই দেখিয়েছেন যে ব্যক্তিগত সাফল্যে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। দলীয় সাফল্য যদি বিবেচনা করা হয় তাহলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে যে বাংলাদেশ ১-১ ব্যবধানে সিরিজ ড্র করেছে তা অনেক বড় প্রাপ্তি। ইতিহাস রচনা করার মতো অর্জন। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে একটি টেস্টে হারানো গেছে। প্রথম টেস্টে ২০ রানে জিতে অসিদের লজ্জা দিয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টে গিয়ে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে সিরিজ বাংলাদেশ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। দলীয় সাফল্যে তাই উজ্জ্বলই বাংলাদেশ। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যে আবার ‘যোজন-যোজন’ দূরে যেন বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয় টেস্টেই সেই পার্থক্য গড়া হয়ে গেছে। ব্যাটিং ও বোলিং, কোন বিভাগেই অস্ট্রেলিয়ানদের ধারে কাছে নেই বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। ব্যাটিংয়ে ডেভিড ওয়ার্নার (৬২.৭৫ গড়ে ২৫১ রান) ও বোলিংয়ে নাথান লিয়ন (২২ উইকেট) অনেক এগিয়ে গেছেন। প্রথম টেস্টের পর বাংলাদেশ ক্রিকেটাররাই এগিয়ে ছিলেন। জয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত সাফল্যেও ছিলেন উজ্জ্বল। দ্বিতীয় টেস্টে সেই উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। অসি ক্রিকেটাররা নিজেদের অভিজ্ঞতার পসরা সাজিয়ে বসেন। কিভাবে টেস্ট ক্রিকেটের মেজাজ ধরে রাখতে হয় তা যেন বুঝিয়ে দেন। দুই টেস্টের চার ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করতে পারেননি। সেখানে নিজেকে ফর্মে ফেরানোর চেষ্টায় থাকা ওপেনার ওয়ার্নার দুই টেস্টে দুটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। তাও আবার টানা দুই সেঞ্চুরি। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে এবং দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিই পার্থক্য গড়ে দেয়। দুই সেঞ্চুরিসহ ৬২.৭৫ গড়ে ২৫১ রান করেন ওয়ার্নার। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শীর্ষস্থানেও আছেন। যেখানে পরের অবস্থানেই আছেন বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবাল। কিন্তু ওয়ার্নারের সঙ্গে তামিমের রান ব্যবধান ৮১। তামিম দুটি হাফসেঞ্চুরিসহ ৪২.৫০ গড়ে ১৭০ রান করেন। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করলেও চট্টগ্রামে নিজভূমে দুই ইনিংস মিলিয়ে ২১ (৯ ও ১২) রানের বেশি করতে পারেননি। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেরা পাঁচে বাংলাদেশের দুইজন আছেন তামিম ও মুশফিক। প্রথম, চতুর্থ (হ্যান্ডসকম্ব) ও পঞ্চম (স্টিভেন স্মিথ) স্থানটি অস্ট্রেলিয়া ব্যাটসম্যানদের দখলেই আছে। ব্যাটসম্যানদের মতো বোলারদের শীর্ষস্থানটিও অস্ট্রেলিয়ানদের দখলেই রয়েছে। স্পিনার নাথান লিয়ন একাই ২২ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আছেন। লিয়নের পরের অবস্থানে থাকা সাকিব পেয়েছেন ১২ উইকেট। ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়েও অবস্থানগুলো একইরকম। প্রথম স্থানটি অস্ট্রেলিয়া দখল করেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় (মিরাজ) স্থানটি পেয়েছে বাংলাদেশ। চতুর্থ (এ্যাগার) ও পঞ্চম (কামিন্স) স্থানটিতে আছে আবার অস্ট্রেলিয়া। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিংয়ে ওয়ার্নার ও বোলিংয়ে লিয়নই ডুবিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। ওয়ার্নারের এক সেঞ্চুরিতে এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। আর লিয়ন তো উইকেটের আচরণ বুঝে তা এমনভাবে ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা শুধু বোকাই বনে গেছে। টপাটপ আউট হয়েছে। দুই টেস্ট মিলিয়ে বাংলাদেশের ৪০ উইকেট ছিল। এরমধ্যে ২২টিই তো লিয়ন নিয়েছেন।