বুধবার ৮ আশ্বিন ১৪২৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ আয় মরু-পারের হাওয়া, নিয়ে যা-রে মদিনায়। জাতে পাক মোস্তফার রওজা মোবারক যথায়। পড়িয়া আছি দুঃখে মুশরেকী এই মুলুকে, পড়ব মাগরিবের নামাজ কবে খানায়ে ক্বাবায়।-(নজরুল)

পবিত্র হজের পুণ্যস্মৃতি বিজড়িত জিলহজ মাসের আজ চতুর্থ দিবস। হজ মানুষের প্রেম ও তৃপ্তির বহ্নিশিখা। হৃদয়ের উত্তাপ এবং আত্মার অন্তত পিপাসা নিবারণের জন্য আল্লাহ-প্রেমিক মুমিনগণ হজে গমন করে। দুনিয়ার সৌন্দর্যের কৃত্রিমতা সম্পর্কে যখন সে বুঝতে পারে পরপারের ডাকে যখন সে তটস্থ বিচলিত তখন প্রভুর দিদার বিনা তার আর কোথাও শান্তি মিলে না। প্রভুর প্রেমে সে ব্যাকুল অস্থির, হজের নিয়ত করে সে প্রেমাস্পদের বিচ্ছেদ দাহনে ঝলসে যাওয়া কলসে সম্যক শীতলতা আনয়ন করতে চায়; প্রিয় নবীর (স.) পবিত্র মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে সে কামনা করে তার পুত-শাফায়াত। মহাত্মা ইমাম গাজ্জালী (রহ.) এ নিগূঢ় তত্ত্বটি যথার্থ উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তাঁর মতে, হজ মানুষকে সমুদয় যুক্তি তর্কের উর্ধে নিয়ে গিয়ে এক অনাবিল আনুগত্যে উপনীত করে যা একান্ত আল্লাহর। শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ, সাফা-মারওয়া দৌড়ঝাঁপ সবই আল্লাহর ফরমাবরদারীর প্রতি বিনা বাক্যে মস্তক অবনত করা। নচেৎ এসব অনুষ্ঠানমালা তো একটি ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণে, এখন এখানে নেই সাক্ষাত শয়তান, নেই মহীয়সী নারী হাজেরার কষ্ট, শিশু ইসমাইলের পিপাসাকাতর আত্মার আকুতি। এভাবেই ইসলামের আবির্ভাবের হাজার বছর আগ থেকেই মানুষেরা পবিত্র ক্বাবায় এসে নিজেকে আল্লাহতে সমর্পণ করেছে। হাশরের ময়দানে যেমন কেউ কারো নয়, স্ত্রী-পুত্র, ধন-সম্পদ সব তুচ্ছ; খানায়ে ক্বাবা জিয়ারতের সময়ও হাজীগণ দুনিয়ার সব মায়াজাল ছিন্ন করে আসে শুধু আল্লাহর ডাকে, তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য লাব্বাইক’ (প্রভু আমি হাজির) ধ্বনিতে বিভোর থাকে। আল কোরআনের ভাষায় ক্বাবা ঘরকে আল্লাহ পাক মানব জাতির স্থিতির কেন্দ্র করে দিয়েছেন (মায়িদা : ৭৯), করেছেন আশ্রয় এবং নিরাপত্তার ঠিকানা (বাকারা-১২৫)। এজন্য এর সঙ্গে বণী আদমের আত্মার আত্মীয়তা। এর সঙ্গে সকলের সম্পর্ক সার্বজনীন, সর্বকালীন।

খানায়ে ক্বাবা নির্মিত হয়েছে ফেরেস্তাদের হাতে, তারপর দুনিয়ার প্রথম নবী ও প্রথম মানব আদম (আ.)-এর পুনর্নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে আল্লাহ প্রেমিক ও মজনুদলের নেতা হযরত ইব্রাহিমের হাতে এখানে হজের বিধান প্রবর্তিত হয় আর আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর হাতে হজের অনুষ্ঠানমালা হয় পরিমার্জিত ও পরিশোধিত। হযরত ইব্রাহিম ইসমাইলের তিরোধানের পর মুসা-ঈসা (আ.) যুগের শেষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আগমনের মাঝখানে যে সময় ছিল তা ছিল অন্ধকার যুগ। মানুষ তখন ক্রমান্বয়ে ভুলে বসেছিল নবীদের দেখানো পথ, তারা লিপ্ত হয়ে পড়ে শিরকসহ নানা গুনাহে। বছরের বিভিন্ন মৌসুমে তারা খানায়ে ক্বাবাকে ঘিরে নানা অদ্ভুত অনুুষ্ঠানমালার আয়োজন করতে থাকে। এ সময়ও তারা হজ করত, তাওয়াফ করত। কিন্তু এর পদ্ধতি ছিল বড়ই বিচিত্র ও হাস্যকর। কুরআন শরীফে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য এসেছে এবং তা একে একে নিষিদ্ধ করে আবার সুন্দর ও পবিত্র পদ্ধতি চালুর বিধান দেয়া হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ:
টিকিটের দাবিতে আজও সৌদি প্রবাসীদের বিক্ষোভ         জাহালমের ক্ষতিপূরণের রায় ২৯ সেপ্টেম্বর         করোনায় কারণে এবার নোবেল পুরস্কার অনুষ্ঠান স্থগিত         ওমরাহ পালনে কাবা ঘর খুলে দিচ্ছে সৌদি         করোনা ॥ ভারতে সুস্থতার হার ৮০ শতাংশ         জাতিসংঘের অধিবেশন : সংহতির ওপর জোর দিলেন মহাসচিব         যেখানে ডেঙ্গু বেশি সেখানে করোনা কম ॥ গবেষণা         যুক্তরাষ্ট্র মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে         করোনা না যেতেই যুক্তরাষ্ট্রে ‘টুইনডেমিক’ আতঙ্ক         আবার জাতিসংঘের ভাষণে করোনাকে ‘চীনা ভাইরাস’ বললেন ট্রাম্প         শুধু মাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে হোটেল থেকে তাড়িয়ে দেয়া হল         আমেরিকার ইরানবিরোধী পদক্ষেপ মানবে না ইউরোপ ॥ ম্যাকরন         ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রির ব্যাপারে চীন ও রাশিয়াকে পম্পেও'র হুমকি         আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করবে ॥ জাতিসংঘে রুহানি         প্রতিরোধের প্রস্তুতি ॥ শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা         বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ চাই         সাউদিয়ার টিকেট নিয়ে হাহাকার- ক্ষোভ প্রবাসীদের         স্বাস্থ্যখাত যেন লুটপাটের সোনার খনি         নেদারল্যান্ডস-নিউজিল্যান্ড থেকে পেঁয়াজ আসছে         করোনায় দেশে মৃত্যু পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে