ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

জোড়া খুনের বিচারের আশায় আজও পথ চেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী 

প্রকাশিত: ১০:৪২, ১৫ মার্চ ২০২৬

জোড়া খুনের বিচারের আশায় আজও পথ চেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে  হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও  বিচার আজও পায়নি পরিবার। 

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলার চাষির হাট ইউনিয়নের শহীদি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে এই আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম,হিজবুত তওহীদ আন্দোলনের মহিলা বিভাগের প্রধান সাহানা পুন্নী রুবাইদা,চট্টগ্রাম বিভাগীয় আমির মাহবুবুর রহমান, নিহত খোকনের স্ত্রী হাজরা বেগম ও তার ছেলে রুবেল ইবনে হোসরাফ।

নিহত খোকনের ছেলে রুবেল ইবনে হোসরাফ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পিতার মৃত্যুর সময় তার মায়ের গর্ভে ছিলেন। নৃশংস হত্যাকান্ডের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার পায়নি। সে এই জোড়া খুনের বিচার চাইলেন। 

আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। এসময় তিনি ২০১৬ সালের ১৪ই মার্চ সোনাইমুড়ীর পোরকরা গ্রামের হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও দুই সদস্যকে নৃশংস ভাবে হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন।এ ঘটনার দিন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী মব সৃষ্টি করে, মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে অপপ্রচার, গুজব রটনা করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উস্কানি দিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আক্রমণ করে তারা বাড়ির আঙ্গিনায় নির্মাণাধীন মসজিদকে গির্জা বলে অপপ্রচার চালিয়ে ধ্বংস করে দেয়। সংগঠনের কয়েকটি সদস্যের বাড়ির মালামাল লুটপাট করে। পরে একে একে সেসব বাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এসময় তারা ১৮টি মোটরসাইকেল, গোলার ধান, গবাদি পশুসহ সব কিছু বাড়ির সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যায়।

মব সৃষ্টি করে দিনে-দুপুরে তার দুই সদস্যকে কিভাবে হত্যা করেছে সেই বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, মসজিদ নির্মাণ করতে আসা হেযবুত তওহীদের দুইজন সদস্য রুবেল ও খোকনকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। এসময় তাদের চোখ তুলে নেওয়া হয়। তাদের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।

নৃশংস এই হত্যার ঘটনায় গত ১০ বছরেও কোন বিচার হয়নি বলে দাবি করেন মোহাম্মদ সেলিম।  তিনি বলেন, “হত্যাকান্ডের ঘটনার ২ বছর পর বিগত সরকারের আমলে একটি মামলা হয়। সেই মামলায় যাদেরকে আসামী করা হয় তাদের অধিকাংশই আইনের আওতায় আসেনি। তাদের গ্রেফতার করা হয়নি, এমনকি একজন মানুষকেও রিমান্ডে আনা হয়নি। বিগত ইউনুস সরকার এই ঘটনায় দায়ীকৃত মামলা নং জি আর ৬১৭/১৬ ইং উল্টো রাজনৈতিক মামলা বিবেচনায় প্রত্যাহার করে দিয়েছে। এতে ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে  আসামীরা তখন থেকে এখনো হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আর ভূক্তভোগীরা বিচারের আশায় প্রতিনিয়ত আদালতের বারান্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, কোন বিচার নেই।”

ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “অতি সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু মামলাকে প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছেন। আমাদের বক্তব্য হলো, একটা ঘটনা ঘটেছে প্রকাশ্যে। কারা জবাই করেছে, কারা অর্থ দিয়েছে, কারা মিছিল করে এসে হামলা চালিয়েছে তার প্রমান আমাদের কাছে রয়েছে। সেসকল ছবি, ভিডিও, অডিও তাদের নাম ঠিকানা সহ আমরা আদালতে জমা দিয়েছি। এই ধরনের আসামীদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে ন্যায় বিচার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হবে।”

বিচারের কোন লক্ষণ নেই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত মামলার প্রকৃত কার্যক্রম শুরু হয়নি। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের সামনে আমরা প্রথমত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা আসামীদেরকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেওয়ার আবেদন করছি। আমাদের ভূক্তভোগী পরিবারকে এখন পর্যন্ত কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তীতে না ঘটে সে বিষয়ে জোর দাবি জানাচ্ছি।’’

হেযবুত তওহীদের এই নেতা বলেন, হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের পরেও এই এলাকায় নানা উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। মসজিদ, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী, স্কুল, হাসপাতাল, খামারসহ অন্তত ৪২ টি উন্নয়ন প্রকল্পে এখানে হাজার হাজার মানুষ কাজ করছেন। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

পুনরায় হামলার ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘এখনো সেই উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি বিভিন্ন সময় এই এলাকার আশেপাশে বেআইনি সমাবেশ করে হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে।’’ যারা এগুলো করছে সংবাদ সম্মেলন থেকে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে জান মালের নিরাপত্তা দাবি জানানে হয়েছে।
 

নোভা

×