ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

নাগেশ্বরীতে ই-নামজারিতে অনিয়মের অভিযোগ ভূমি অফিসের স্বেচ্ছাচারিতা

সংবাদদাতা,নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত: ১৭:২৫, ১৪ মার্চ ২০২৬

নাগেশ্বরীতে ই-নামজারিতে অনিয়মের অভিযোগ ভূমি অফিসের স্বেচ্ছাচারিতা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ই-নামজারি সেবা নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া, তুচ্ছ অজুহাতে আবেদন বাতিল এবং শুনানিতে আবেদনকারীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। এসব অনিয়মের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান রিশাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী ই-নামজারি আবেদন ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও নাগেশ্বরীতে অনেক ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৮০ দিনেও আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না। এতে জমির মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে নামজারি আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। আবার শুনানির সময় আবেদনকারীদের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই আবেদন নামঞ্জুর করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নামজারি করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকের দাবি, টাকা ছাড়া দ্রুত কাজ হয় না। টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে নথি আটকে রাখা হয় এবং আবেদনকারীদের বারবার ঘুরতে বাধ্য করা হয়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত নথি আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের জটিলতার কারণে জমি কেনাবেচা কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রাম সোনাহাট মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের জন্য সরকার ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করলেও ই-নামজারি সম্পন্ন না থাকায় অনেক জমির মালিক জমি হস্তান্তর করতে পারছেন না। ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে উন্নয়ন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে নাগেশ্বরী উপজেলার আব্দুল গণী, মজিবুল ইসলাম, জসীম উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম ও আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন সেবাগ্রহীতা কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগকারী আব্দুর রহমান জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তার কোনো  বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

রাজু

×