ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিতহ বেড়ে ১৪

বাবুল সরদার, বাগেরহাট 

প্রকাশিত: ২১:৪৫, ১২ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিতহ বেড়ে  ১৪

ছবি: জনকণ্ঠ

বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে জমজ দুই শিশু এবং নববিবাহিত বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৪ জনের লাশ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ জন। বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ জনকণ্ঠকে দুর্ঘটনার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, বর সাব্বির (৩০), নববধূ মারজিয়া আক্তার মতি (২৫), মতির নানী আনোয়ারা (৭০), বোন লামিয়া (১২), সাব্বিরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক (৭০), মা আঞ্জুমান বেগম (৬০), ভাবি পুতুল (৩৫), আলফি (১২), ঐশি (৩০), সামিউল, ইরাম, মাইক্রোবাসের চালক নাঈম (৩০) ও অজ্ঞাত ৩ জন। এদের মধ্যে ১০ জন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

মোংলা পৌর ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আঃ রাজ্জাকসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা কয়রা থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নববধুসহ বাড়ি ফিরছিলেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহতদের লাশ রয়েছে বলে পুলিশ ও মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে।

বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার এসআই কেএম হাসানুজ্জামান বলেন, রামপালের বেলাইব্রিজ নামক স্থানে দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

পরিচয় নিশ্চিত করে নববধুর মামা নাসিমউদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাগনির আজ বিয়ে হয়েছে। বিয়ে অনুষ্ঠান শেষে সবাই মাইক্রোবাসযোগে ফিরছিলেন। পথে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে তারা নিহত হন। তার ভাগনি ছাড়া আরও একই পরিবারের ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নববধূসহ তিনজনের বাড়ি কয়রা উপজেলায়।’

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল বলেন, হাসপাতালে শিশুসহ চারজনকে নিয়ে আসা হয়। এখানে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ এখন হাসপাতালে আছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় আটজন নিহত এবং ২ জনকে আহত অবস্থায় মেডিকেলে আনা হয়। পরবর্তীতে আহত ব্যক্তিরাও মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাগেরহাটের রামপালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সাথে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পরিবহন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাইক্রোবাসটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জনের মরদেহ রয়েছে। বাকি মরদেহগুলো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।

নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।

এ ঘটনার পর বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, খুলনা-মোংলা মহাসড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে নির্দেশ দেন। মোংলা পৌর ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আঃ রাজ্জাকসহ তার পরিবারের সদস্যরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ তিনি গভীর সমবেদনা জানান এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে নিহতদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব কামনা করেন।

শহীদ

×