ছবি: সংগৃহীত।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে কাশেদ আলী হত্যা মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (০২ মার্চ) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকে.এম তোফায়েল হাসান আসামিদের অনুপস্থিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিতরা হলেন, সিংগাইর উপজেলার কানাইনগর এলাকার জয়নাল পালের মেয়ে সাহিদা বেগম এবং ছেলে লিয়াকত আলী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সাহেদা বেগমকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল এলাকার কাশেদ আলী। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সুযোগ বুঝে সাহেদা বেগমকে ধর্ষণ করে কাশেদ আলী। এই ঘটনার জেরে ধরে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে সাহেদা বেগমকে কাশেদ আলীকে বাড়ির পাশে আসতে বলে। এসময় ভাই লিয়াকত আলীর সহযোগিতায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কাশেদ আলীকে হত্যা করে। এর পর লাশ বস্তাবন্দি করে একটি পাট ক্ষেতে মাটি চাপা দেয়। এদিকে স্বামী কাশেদ আলী বাড়ি না ফেরায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে সিংগাইর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন স্ত্রী ফাহিমা আক্তার। এঘটনার ১১ দিন পর বাড়ির পাশের একটি পাট ক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কাশেদ আলীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ এঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার বাদি হয়ে সাহিদা বেগম, লিয়াকত আলী ও আজমত আলীকে আসামি করে সিংগাইর থানায় মামলা করেন। পুলিশ সাহিদা বেগম, লিয়াকত আলী ও আজমত আলীকে গ্রেফতার করে। এরপর বিভিন্ন সময় আসামিরা একে একে জামিনে বের হয়ে আসে।
২০১৫ সালের ২২ জুলাই তৎকালীন সিংগাইর থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রুহুল আমীন তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে এবং ২২জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় মানিকগঞ্জ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাহিদা বেগম ও লিয়াকত আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অপরদিকে দোষী প্রমাণিত না হওয়ায় আজমত আলীকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) এ.এফ.এম.নূরতাজ আলম বাহার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মামলায় হত্যার অভিযোগে সাহিদা বেগম ও লিয়াকত আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ উভয় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মামলার আরেকটি ধারায় উভয়কে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এম.কে








