মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলাধীন বালিয়াটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম–এর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অনিয়ম ও কৃষকদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সম্পৃক্ত না থাকার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াটি ব্লকে যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিত অফিস করেন না এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত কক্ষে উপস্থিতিও অনিয়মিত। কৃষকদের অভিযোগ, মাঠে তাকে দেখা যায় না; ফোন করলে তিনি উপজেলা কৃষি অফিসে জরুরি কাজের কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
বালিয়াটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মনির হোসেন দুর্লভ বলেন, পূর্ববর্তী কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষকদের সমস্যা শুনে সমাধান দিতেন; কিন্তু বর্তমান কর্মকর্তাকে কৃষকদের সঙ্গে দেখা যায় না।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন, মাঠে উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান, কৃষি সমস্যা চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা, মৌসুমভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনায় সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও মাঠদিবস আয়োজন, এবং কৃষি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে না।
খলিলাবাদ গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন জানান, তিনি বর্তমান কর্মকর্তাকে চেনেন না; তবে আগের কর্মকর্তা নিয়মিত মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিতেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নির্ধারিত কক্ষে বসে তিনি অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অনলাইন সেবা প্রদান করে থাকেন।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া কৃষি অফিসের নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তারা বলেন, সাদেকুল ইসলাম তার কর্মস্থল এলকায় উপজেলা কৃষি অফিস থাকাতে, এখানে সারাদিন পড়ে থাকেন। উপজেলা কৃষি অফিসে চাটুকাদার করতেই তার দিন পার হয়ে যায় তার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাদেকুল ইসলাম বলেন, কম্পিউটার বিষয়ে দক্ষ হওয়ায় তাকে অধিকাংশ সময় উপজেলা কৃষি অফিসে কাজ করতে হয়। এছাড়া বালিয়াটি পর্যটন এলাকা হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সফর-সংক্রান্ত প্রটোকল দিতেও সময় ব্যয় হয়; বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ.এইচ








