প্রকৃতি কি বড় কোনো মহাদুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা দিচ্ছে? ক্যালেন্ডারের পাতায় ফেব্রুয়ারি মাস এখনো শেষ হয়নি, অথচ এরই মধ্যে ১০ বার কেঁপে উঠল বাংলাদেশের মাটি। সর্বশেষ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হওয়া ৫.৩ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনটি যেন সেই শঙ্কাকেই আরও ঘনীভূত করল।
এক মাসে দফায় দফায় এই ছোট-মাঝারি কম্পনগুলো কি বড় কোনো ভূমিকম্পের ফোর-শক বা সাবধানী সংকেত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটির নিচের এই অস্থিরতা জনপদের জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত হতে পারে। ঘনঘন এই ভূ-কম্পন কি বড় কোনো মহাদুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা? সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
চলতি ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ভূকম্পন অনুভূত হয় মাসের প্রথম দিনেই (১ ফেব্রুয়ারি)। সেদিন ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট শহর থেকে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।
এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পরপর দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যেগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে। ওই দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ এবং ৫ দশমিক ২।
একই দিন ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ভূকম্পন অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
পরে ৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দুটি কম্পন অনুভূত হয়। এ দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ এবং ৪।
১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে আবার সিলেট অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা। এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলের যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬।
সর্বশেষ আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভূকম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরা জেলা থেকে মাত্র ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৫.৩। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাটির নিচে মাত্র ৯.৮ কিলোমিটার, যা অগভীর হওয়ার কারণে কম্পন বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছে।
সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ১০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ঘন ঘন এই ভূমিকম্পের ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতি এখনও অনেক ক্ষেত্রে উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অবকাঠামোগত ঝুঁকি কমাতে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।








