ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

ইভটিজিংকে যৌন হয়রানি স্বীকৃতি দিয়ে দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবি

প্রকাশিত: ০৬:২৪, ১৫ জুন ২০১৭

ইভটিজিংকে যৌন হয়রানি স্বীকৃতি দিয়ে দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইভটিজিং বা উত্ত্যক্তকরণকে যৌন হয়রানি স্বীকৃতি দিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় প্রক্রিয়াধীন আইনটি দ্রুত প্রণয়ন করার দাবি জানিয়েছে উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (ডব্লিউজেএনবি)। ইভটিজিং প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘উত্ত্যক্তকরণের নানারূপ: প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, উত্ত্যক্তকরণকে হাল্কা করে দেখার অবকাশ নেই। এটি যৌন হয়রানি এবং সামাজিক অপরাধও। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। ডব্লিউজেএনবির সমন্বয়কারী আঙ্গুর নাহার মন্টির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফৌজিয়া খোন্দকার ইভা, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডাঃ হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং প্রজন্ম একাত্তরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ নুজহাত চৌধুরী শম্পা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, অনলাইন এক্টিভিস্ট লীনা পারভীন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী, নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ লাভলী ইয়াসমিন জেবা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন দিবসটি নিয়মিত পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধের শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। ছেলেশিশুকে পরিবারের নারী সদস্যদের সম্মান করার শিক্ষা দিতে হবে। আর মেয়েশিশুকে বোঝাতে হবে সে মোটেও দুর্বল নয়। রঞ্জন কর্মকার উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় প্রক্রিয়াধীন যৌন হয়রানি বিরোধী আইনটি দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, উত্ত্যক্তকরণের কুফল ও ভয়াবহতা উপলব্ধি করে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় দিবসটি ঘোষণা করলেও একবারই জাতীয়ভাবে পালন করেছে। অথচ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি নিয়মিত পালনের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সম্ভব। ফৌজিয়া খোন্দকার ইভা উত্ত্যক্তকরণকে প্রাথমিক পর্যায়ের নির্যাতন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মেয়েশিশুকে সাহসী করে গড়ে তুলতে হবে। যাতে সে মাথা উঁচু করে প্রতিবাদ করতে শেখে। হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রতিবাদ করা শেখাতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজেও সেই প্রতিবাদ সমর্থন করার চর্চা করতে হবে। নুজহাত চৌধুরী শম্পা যৌন শিক্ষাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করে বলেন, ঘরের শিক্ষায় আমরা আসলে ছেলেশিশুটিকে যতটা না বোনকে সম্মান করা শেখাই, তার চেয়ে বেশি শেখাই বোনের ওপর নজরদারি করা। পরিবারে, স্কুলে মানবিক শিক্ষা দিতে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার। শামসুন্নাহার চাপা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। কিন্তু সবকিছু সরকারের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না। আমরা কি দায়িত্ব পালন করছি সেটিও বিবেচনা করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সকলকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে।