ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাধুবাদ

২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৩২, ২১ এপ্রিল ২০২৪

২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

তীব্র তাপপ্রবাহ ও হিট অ্যালার্টের মধ্যে সারাদেশের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় সাতদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সবধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। শনিবার দুই মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তীব্র গরমের কারণে গত বছর দেশে ৫ জুন থেকে ৮ জুন প্রথমবারের মতো সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া ও তাপমাত্রার আধিক্যে এবার সবধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলো।
আবহাওয়াবিদরাও তীব্র গরমের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের আভাস দিয়ে আসছিলেন। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের  পরামর্শক্রমে ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসের আলোকে এই সপ্তাহে বিদ্যালয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ছুটি পরিবর্তন করা হতে পারে। 
শনিবার প্রথম পর্যায়ে দেশের সব প্রাথমিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিদিনের অ্যাসেম্বলি (সমাবেশ) বন্ধের ঘোষণা দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, চলমান তাপপ্রবাহে শিশুশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় ২১ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশুকল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে।

এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে মাউশির অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পরের দুদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এর ফলে কার্যত এই ছুটি হবে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত। জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে সব কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তীব্র দাবদাহের কারণে পরবর্তী তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজের ক্লাস বন্ধ থাকবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী জনকণ্ঠকে জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঈদ ও গরমের ছুটি শেষে ২১ এপ্রিল খোলার কথা ছিল। কিন্তু সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতার প্রেক্ষিতে আগামী ২৮ এপ্রিল রবিবার খুলবে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চলাফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ছুটির বিষয়ে একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। মাদ্রাসা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাকির হোসাইন জনকণ্ঠকে জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের মতো সব ধরনের মাদ্রাসা আগামী সাতদিন বন্ধ থাকবে। এর ফলে এমপিওভুক্ত ৮ হাজার ২২৯ মাদ্রাসা ও বেসরকারি পর্যায়ের মাদ্রাসাগুলোতেও ক্লাস কার্যক্রম ছুটির আওতায় থাকবে। 
রাজধানীর অধিকাংশ স্কুল-কলেজে দুই শিফট চালু রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের সুযোগ নেই। ৯০ ভাগের বেশি স্কুলে নেই খেলার মাঠ বা খোলা জায়গা। এমন পরিস্থিতিতে বাচ্চাদের স্কুল সরকারিভাবে বন্ধের দাবি জানানো হয় অভিভাবকদের পক্ষ থেকে। শিক্ষকরাও জানান, বাচ্চাদের সারভাইভ করার ক্ষমতা কম। এদের অ্যাক্টিভিটিও বেশি। যে কারণে তাদের পরিশ্রমও বেশি হয়।

অন্যদিকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। ফলে দীর্ঘ সময় স্কুলে থাকলে পর্যাপ্ত পানি খাবে কী না তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। শুক্রবার তীব্র দাবদাহে সারাদেশে হিট অ্যালার্ট জারি করায় স্কুল-কলেজ আরও সাতদিন বন্ধের দাবি জানিয়েছিল অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। দেশের স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায়। শনিবার সরকারিভাবে সাতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় দুলু জানান, উপযুক্ত সময়ে দাবি জানানো হয়েছিল। সরকার দাবি বিচার-বিশ্লেষণ করে এর উপযোগিতা বুঝতে পেরেছে।
গরম ও ঈদের ছুটি মিলিয়ে টানা ২৬ দিন বন্ধ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আবারও এক সপ্তাহের বন্ধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতি বাড়বে। এ প্রসঙ্গে অভিভাবকরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে কারও হাত নেই। গরমে স্কুলে কোনো শিক্ষার্থী স্ট্রোক বা অসুস্থ হয়ে পড়লে সেটি আরও ম্যাসাকার হতো। তবে শিখন ঘাটতি পূরণে সাপ্তাহিক দুদিন ছুটি একদিন কমিয়ে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বাড়ছে হিটস্ট্রোক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কতা ॥ প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয় মানুষ। মানুষ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যায়। বাস্তবতা হচ্ছে, গরম আবহাওয়ার কারণে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যায়। শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে লবণজাতীয় পদার্থ বের হয়ে যায়। শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। মানুষ অজ্ঞান হয়, খিঁচুনি দেখা দেয়।

পরিস্থিতির বেশি অবনতি ঘটলে কিডনি ও ফুসফুসের ক্ষতি হয়, মানুষ মারাও যেতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হিটস্ট্রোকের বিষয়ে জাতীয় নির্দেশিকার (গাইডলাইন) খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। দুই-একদিনের মধ্যে সারাদেশের চিকিৎসকদের হিটস্ট্রোকের রোগী চিকিৎসার প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালে গরম দিনের সংখ্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ১৯৬১ সালের দিকে বছরে এ রকম সাতটি দিনের মুখোমুখি হতেন বাংলাদেশের মানুষ। এখন সেই কষ্টের দিনের সংখ্যা বেড়ে ২০ থেকে ২১ দিন হয়েছে।

×