মঙ্গলবার ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

যে গান অনুপ্রেরণার..

  • তৌফিক অপু

গিটারের ছয়টি তার একসঙ্গে মাঝে মধ্যেই বেজে ওঠে। এতে রাহাত সাহেব খুব বেশি অবাক হন না, কারণ তার বড় ছেলে ব্যান্ড নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করে। সে কারণে সময় অসময়ে গিটারের সুর ভেসে আসে তার ঘর থেকে। কিন্তু আজ গিটারের সুরটা যেন কেমন আন্দোলিত করছে মনকে। মনে হচ্ছে কোন চেনা গান, মনে দাগ কাটার মতো কোন গানের আদলে সুর বাজছে। গানটা কানে আসা মাত্রই ছুটে গেলেন ছেলের ঘরে, ঢুকেই মন দিয়ে শুনলেন ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ গানটা। বেশ আপ্লুত হয়েই ছেলেকে বললেন, হঠাৎ এই গান? তৎক্ষণাত উত্তর স্বাধীনতা দিবসের কনসার্ট এ গাইতে হবে। বাবার প্রশ্ন কনসার্টে এসব গান চলে না কি? শ্রোতারা শুনে তো? ছেলে জানায় বেশ ভালভাবেই শুনে এবং গ্রহণ করে। রাহাত বেশ গর্বের হাসি দিয়ে ভাবতে লাগলেন গ্রহণযোগ্যতা তাহলে গানগুলো কমেনি।

এদেশের মুক্তিযুদ্ধ সময়ে নির্মিত এ ধরনের গানগুলো যে সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম প্রেরণা হয়ে ধরা দিয়েছিল। বলা মোটিভেশন হিসেবে কাজ করেছে গানগুলো। উদ্যোগ বৃথাও যায়নি, সে অনুপ্রেরণা নিয়েই জয় ছিনিয়ে আনা হয়েছিল। আর গানগুলো হয়ে থাকল কালের সাক্ষী। যা আজও বেজে যাচ্ছে আপন মহিমায়।

সুর অসুরের দোলাচলে মুক্তিযুদ্ধের গান

গান মানুষকে বিমোহিত করে, গান মানুষকে আনন্দে হাসায়, দুঃখে কাঁদায়। জীবনের এক অপরিহার্য উপাদানই বলা যায়। কারণ যাপিত জীবন থেকেই সৃষ্টি হয় গানের কথা ও সুর। আর এ কারণেই গান যুগে যুগে মানুষের মুখে মুখে ফেরে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সুরের চেয়ে অসুরের ধ্বনিই যেন বেশি কানে বাজছে। যে কারণে গান হয়ে যাচ্ছে ক্ষণস্থায়ী। পক্ষান্তরে ভাল গান বেশ কমই সৃষ্টি হচ্ছে। এ যেন এক অসম প্রতিযোগিতা। এক সময় ভাল গানের জোয়ারে বেসুর গান হারিয়ে যেত। আর এখন বেসুরে অসুর তার আসন যেন পাকাপোক্ত করছে। তবে এ সময়ে এখনও মুক্তিযুদ্ধের গান, দেশের গান তার নিজস্ব গতিতেই চলেছে। যা সত্যিকার অর্থেই আশার আলো দেখায়। বিশেষ বিশেষ দিবসে যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ, চৈত্র সংক্রান্তি কিংবা পৌষ পার্বণে এখনও পুরনো জনপ্রিয় গানের পাশাপাশি নিত্য নতুন দেশাত্মবোধক কিংবা জাগরণী গান সৃষ্টি হচ্ছে। যা পরিচালনা বর্তমান প্রজন্ম। এবং গানগুলো বেশ শ্রুতিমধুর ও শ্রোতানন্দিত। এ চিত্রই বলে দেয় বর্তমান প্রজন্ম এখনও দেশ নিয়ে ভাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাবে। আর এদের দিকেই তাকিয়ে আমাদের এদেশ।

তারুণ্যের ভাবনায় মুক্তিযুদ্ধের গান

গত বছরে বিজয় দিবসের কনসার্টের প্রস্তুতির আগে তরুণ এক গায়কের সঙ্গে আলাপনে চমৎকার কিছু কথা জেনেছিলাম। কথাগুলো শুনে মনে হলো এ সময়েও পথ হারাবে না বাংলাদেশ। ভাষ্যমতে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উজ্জীবিত রাখার কাজটি গানের মাধ্যমে অনেকখানিই এগিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যান্য সেক্টরে যতটুকুই কাজ হয়েছে সে তুলনায় পিছিয়ে নেই গানের ভা-ার। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রতিটি জেনারেশনই স্বাধীনতার সংগ্রাম নিয়ে, বিজয় নিয়ে কিংবা দেশ মাতৃকাকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে গান প্রকাশ করেছে। যা মুক্তিযুদ্ধের ধারক হিসেবে কাজ করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করে যে মহান কাজটি করে গেছে, সে সম্মান অক্ষুণœ রাখতেই সঙ্গীত শিল্পীরা নিজেদের মতো করে যথাসাধ্য চেষ্টা করে গেছে। কখনও নতুন গান, কখনও বা পুরনো গানের নতুন ভার্সন নিয়ে কাজ করেছে। ধরে রেখেছে সে সময়ের চেতনাকে। যদিও অনেকেই পুরনো গানের নতুন যন্ত্রসঙ্গীতের সংযোজন ভালভাবে দেখেন না। সে ক্ষেত্রে ভাষ্য হচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যার চিন্তা ভাবনা কিংবা রসবোধ। একটা সময়ে যে সাউন্ড কিংবা মিউজিকে মানুষ গান শুনে অভ্যস্ত এখন সে ধারা অনেকটাই পাল্টে গেছে। নতুন নতুন মিউজিকে গান শুনতে চায় এখন মানুষ। আর পুরনো গানগুলোকে নতুন করে করার ক্ষেত্রে যদি এই সংযোজনগুলো না করা হয় তাহলে দেখা যাবে গানগুলো শ্রোতাদের ঘর পর্যন্ত নাও পৌঁছতে পারে। একটু আধুনিক সংযোজন যদি গানগুলো টিকিয়ে রাখে তাহলে দোষটা কোথায়। নতুন প্রজন্ম তো শুনছে গানগুলো এবং বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে গাইছে। আর যাই হোক গান এবং গানের প্রেরণা তো টিকে থাকছে। গানের কথা এবং এর মর্মবোধ তো গেঁথে যাচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের মনে এটাই তো কম কিছু নয়।

মেটাল কিংবা হেভি মেটালেও

মুক্তির গান

বর্তমান প্রজন্ম আধুনিক কিংবা ব্যান্ডের গানের প্রতি বেশি ঝুঁকে আছে। এবং পাশ্চাত্যের ঢঙ্গে এদেশে স্থান করে নেয়া মেটাল বা হেভি মেটালের প্রতিও উৎসাহ কম নেই। যুগের চাহিদায় এ ঝোঁক কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। ব্যান্ডের গানে দেশের গান কিংবা মুক্তিযুদ্ধের গান ঠাঁই পেয়েছে অনেক আগেই। আশার কথা হচ্ছে হেভি মেটাল ব্যান্ডেও প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নতুন নতুন গান। যার ফলে গানের যে যেই প্যাটার্নই পছন্দ করুক না কেন সবাই কাছেই পৌঁছে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংবলিত গানের কথা ও সুর। আর এ ধারা সত্যিকার অর্থেই এক ইতিবাচক দিক। তবে সবারই খেয়াল রাখা উচিত অতি আবেগে কখনই যেন গানের কথা ও সুরে ভুল তথ্য না উঠে আসে।

গান লেখা ও সুরের জন্য প্রয়োজন সঠিক ইতিহাস জানা

এ সময়ের ছেলে মেয়েরা দেশের গান কিংবা মুক্তিযুদ্ধের গানের চর্চা করছে এটা পজেটিভ দিক। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে লেখা নতুন গানগুলো লেখার আগে অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত কোথায় কোন ভুল হচ্ছে কিনা। সঠিক ইতিহাস লেখনীর মাধ্যমে উঠে আসছে কিনা। কোন বিকৃত কিছু ঢুকে যাচ্ছে কিনা। আর এসব তখনই পরিপূর্ণতা পাবে যখন জানা থাকবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। এ কারণে জানতে হবে পড়তে হবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। না জেনে কোন কিছু করা এবং সেটা পাবলিকলি পাবলিশ করাটাও কিন্তু অন্যায়ের সামিল। অতএব, আবেগের বশবর্তী না হয়ে জেনে বুঝে গান লিখলে বা সুর করলে সেটা শ্রোতাপ্রিয়তা বেশি বই কম হবে না।

ছোটদের গানের স্কুল থেকেই এ চর্চা অব্যাহত রাখা

কৃষ্টি কালচারে ঐতিহ্যম-িত আমাদের এদেশ। সেই আদিকাল হতে আজ অবধি কত যে সুমধুর বাংলা গান রচিত হয়েছে তার ইয়াত্তা নেই। আর এ ধারার একটি অন্যতম অংশ হচ্ছে দেশের গান, মুক্তিযুদ্ধের গান। সংস্কৃতির আবাহনে বাঙালীর একাত্মতা আজকে নতুন কিছু নয়। সে ধারাবাহিকতায় এখনও বাবা মায়েরা ছোট ছেলে মেয়েদের স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি গান কিংবা নাচের সঙ্গে সম্পৃক্ত করিয়ে রাখে। কোমলমতি শিশুদের এখান থেকেই নিজের সংস্কৃতির সঙ্গে হাতেখড়ি ঘটে। যে কারণে এ সময়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ শেখাটা যদি ভুল হয়ে যায় তাহলে আজীবন সে বহন করবে সে ভুল। অতএব এই শিশুদের শেখার জন্য শিক্ষদের আগে উচিত নিজেদের পরিপূর্ণ করে তোলা। অর্ধেক কিছু শিখে তা অন্যকে শেখানো উচিত নয়। গান শেখানো ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গভীরভাবে পরিলক্ষিত করা উচিত। দেশের গান কিংবা মুক্তিযুদ্ধের গান শেখানো পাশাপাশি শিশুদের মাঝে সৃষ্টি করা উচিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এবং অবশ্য সেটা শুদ্ধ হতে হবে। কোন ভুল প্রেরণা বা চেতনা শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যেন না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে।

গান যেমন মন প্রশান্ত করে তেমনি গান কিন্তু অনেক তথ্যও বহন করে। দেশকে নিয়ে গান কিংবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গান রচনা আগে অনুভব করতে হবে। মন দিয়ে ভালবাসতে হবে দেশ কে। সম্মান জানাতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে। এবং সে চেতনা স্বীয়বক্ষে ধারণ করতে হবে। তবেই না তৈরি হবে নতুন নতুন দেশের গান, মুক্তিযুদ্ধের গান। যদিও এ ধারা ইতোমধ্যে বইছে আমাদের প্রজন্মের মধ্যে। যা আশার পালে হাওয়া দিচ্ছে। এভাবেই সত্যের সঙ্গে নির্ভুলভাবে টিকে থাকুক দেশের গান, মুক্তিযুদ্ধের গান, সে প্রত্যাশাই রইল।

শীর্ষ সংবাদ:
সাহেদের যাবজ্জীবন ॥ আড়াই মাসেই অস্ত্র মামলায় রায়         আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন         বেসরকারী মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ আইনের খসড়া অনুমোদন         এ পর্যন্ত ৭ জন গ্রেফতার ৩ জন রিমান্ডে বিক্ষোভ, সমাবেশ         বিদেশী ঋণে জর্জরিত ঢাকা ওয়াসা         সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গণে মাহবুবে আলমকে শেষ শ্রদ্ধা         দেশে করোনা রোগী শনাক্তের হার বেড়েছে         দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না সৌদি প্রবাসীদের         মুজিববর্ষে গৃহহীনদের ৯ লাখ ঘর দেবে সরকার         তদারকির অভাব নৌ যোগাযোগ খাতে         আজন্ম উন্নয়ন যোদ্ধার অপর নাম শেখ হাসিনা ॥ কাদের         অসময়ের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে কৃষক         মৌজা ও প্লটভিত্তিক ডিজিটাল ভূমি জোনিং ম্যাপ হচ্ছে         শেখ হাসিনার জন্মদিনে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত         নবেম্বরে আসতে পারে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী         শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করুন ॥ স্পিকার         কর্মের মধ্য দিয়ে দলের চেয়ে অধিক জনপ্রিয় শেখ হাসিনা ॥ কাদের         এমসি কলেজে ধর্ষণ ॥ সাইফুর, অর্জুন ও রবিউল রিমান্ডে         ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ উপনির্বাচন ১২ নবেম্বর         শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলতে চাইলে মত দেবে মন্ত্রিসভা