ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

সুনামগঞ্জে হাওর রক্ষা বাঁধে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ, ঝুঁকিতে বোরো ফসল

আব্দুস সালাম, সুনামগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:৫৯, ১২ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জে হাওর রক্ষা বাঁধে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ, ঝুঁকিতে বোরো ফসল

ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষার প্রধান রক্ষাকবচ ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণে চরম ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের বড় একটি অংশ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এতে আগাম বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটছে জেলার লাখো কৃষকের। পানি উন্নয়ন বোর্ড সময় বাড়িয়ে নিলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০২টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সংস্থাটি আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে নিয়েছে। তাদের দাবি, মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৭৮ শতাংশ মাটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তবে পাউবোর এই তথ্যের সঙ্গে মাঠের চিত্রের ব্যাপক অমিল রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় কৃষকরা। জেলার দিরাই, শাল্লা, তাহিরপুর, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, অনেক প্রকল্পের কাজ এখনো অর্ধেকও শেষ হয়নি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্লোজার বা ভাঙন এলাকা এখনো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। কৃষকদের অভিযোগ, অনেক স্থানে নামমাত্র মাটি ফেলে কাজ শেষ দেখানো হচ্ছে। এছাড়া অক্ষত বা পুরনো বাঁধে নতুন করে বরাদ্দ দিয়ে টাকা লুটপাটের পাঁয়তারা চলছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

স্থানীয় বিভিন্ন সচেতন মহলের মতে, পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বা পিআইসি গঠনে বিলম্ব এবং বিল পরিশোধের জটিলতার কারণে কাজের এই করুণ দশা। অভিযোগ রয়েছে, নীতিমালা তোয়াক্কা না করে অনেক স্থানে গণশুনানি ছাড়াই পিআইসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে প্রভাবশালীরা প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় কাজের গুণমান ও গতি ব্যাহত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলন এবং পরিবেশ ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সরজমিনে বিভিন্ন বাঁধ পরিদর্শন করে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসইভাবে কাজ শেষ করতে না পারলে সামান্য বৃষ্টি বা উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে যেতে পারে।

কাজের ধীরগতির বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, জাতীয় নির্বাচনের কারণে শ্রমিক সংকট ও অন্যান্য কিছু কারণে কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবে বর্ধিত সময়সীমার মধ্যেই সব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

হাওরপাড়ের কৃষকদের এখন একমাত্র দুশ্চিন্তা আবহাওয়া নিয়ে। মেঘের ডাক শুনলেই তারা আঁতকে উঠছেন। যদি সময়মতো বাঁধের কাজ শেষ না হয়, তবে গত কয়েক বছরের মতো এবারও আগাম বন্যায় হাহাকার পড়ে যেতে পারে পুরো জেলায়। তাই দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ শেষ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন হাওরবাসী।

এম.কে

×