হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক নির্বাহী প্রকৌশলীর নিজের নামে উল্লেখযোগ্য সম্পদ না থাকলেও তার স্ত্রী ও দুই ছেলের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পিরোজপুরে কর্মরত এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার কাগজে-কলমে প্রায় নিঃস্ব হলেও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সম্পদের উৎস হিসেবে অবৈধ আয়ের সন্দেহ করছে সংস্থাটি।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আসামি করা হয়েছে আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, তার স্ত্রী রীনা পারভীন এবং দুই ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাত ও ফজলে রাব্বি রিমনকে। মামলাগুলো দায়ের করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল।
স্ত্রী গৃহিণী, তবু কোটি টাকার সম্পদ
দুদকের অনুসন্ধান বলছে, রীনা পারভীন পেশায় গৃহিণী এবং তার কোনো উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস নেই। কিন্তু তার নামে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালীর আরামবাগ এলাকায় প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তার নামে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার পান্থপথে একটি আবাসিক ভবনে প্রায় ৪৭ লাখ টাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে।
এর পাশাপাশি পশ্চিম আগারগাঁওয়ের একটি আবাসন প্রকল্পে দুটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য প্রায় দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে জমি, ভবন ও ফ্ল্যাটসহ তার নামে প্রায় চার কোটি ৩৮ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংক জমা, গাড়ি ক্রয় এবং ব্যবসায় বিনিয়োগসহ প্রায় এক কোটি ৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্যও পেয়েছে দুদক। অথচ তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে মাত্র ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। ফলে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্র হয়েও কোটি টাকার মালিক
দুদকের অনুসন্ধানে প্রকৌশলীর দুই ছেলের নামেও বিপুল সম্পদের তথ্য মিলেছে। তদন্তে জানা যায়, সম্পদ অর্জনের সময় তারা দুজনই শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তাদের কোনো পেশাগত আয় ছিল না।
নথি অনুযায়ী, বড় ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাতের নামে প্রায় ১২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ছোট ছেলে ফজলে রাব্বি রিমনের নামে প্রায় ১২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
অন্যদিকে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রিফাতের নামে প্রায় ৯৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং রিমনের নামে প্রায় ৭৩ লাখ ৫১ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে দুই ছেলের নামে প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব উঠে এসেছে।
দুদকের অভিযোগ, অবৈধ আয়ের উৎস আড়াল করতে তাদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ দেখানো হয়েছে। এমনকি তাদের নামে আয়কর নথিও খোলা হলেও বাস্তবে কোনো আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি।
সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ
দুদকের আবেদনের পর পিরোজপুরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত আসামিদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এখনো নিয়োগ করা হয়নি। তবে তদন্ত শুরু হলে আরও সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিনি বলেন, প্রকৌশলীর নিজের নামে বড় কোনো সম্পদের তথ্য না পাওয়া গেলেও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদের বিষয়টি এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
Mily








