ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

প্রকাশিত: ১৪:৩৫, ১৭ অক্টোবর ২০২২

প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ

ম্যাপে বরিশাল

জেলার গৌরনদী উপজেলা প্রাথমিক প্রধানশিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পূর্ব সমরসিংহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক বিএম ইউনুস আলীর বিরুদ্ধে ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর মা স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের কাছে বিচার দিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি। উল্টো অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষকের পক্ষালম্বন করে একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাঁপা দিতে ভূক্তভোগীদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও অন্য শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার সকালে নিপীড়নের শিকার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, স্কুলে ছবি লাগবে এ কথা বলে সম্প্রতি ওই প্রধানশিক্ষক স্কুল বন্ধের দিন তাকে বাকাই বাজারে ডেকে নেন। পরে বেড়ানোর কথা বলে তাকে নিয়ে ডাসার কলেজ ক্যাম্পাসে যান। ওইসময় ভয়ভীতি দেখিয়ে এক যুবকের সাথে একাধিক ছবি প্রধানশিক্ষক ইউনুস আলী তার মোবাইল ফোনে তোলেন। এরপর থেকে স্কুলের ক্লাস বিরতীর সময় প্রধানশিক্ষক প্রায়ই তাকে স্কুল ভবনের দোতলার ক্লাসরুমে ডেকে নিয়ে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এসব ঘটনা কাউকে জানালে তাদের ওই ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়াসহ তাকে স্কুল থেকে টিসি দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরে বিষয়টি সে (ছাত্রী) তার মায়ের কাছে জানায়।

যৌণ নিপীড়নের শিকার অপর এক ছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, প্রধানশিক্ষক কর্তৃক আমার মেয়েকে শ্লীলতাহানির ঘটনা আমি জেনে প্রথমে কয়েকদিন মেয়েকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেই। পরে মেয়েকে নিয়ে আমি স্কুলে গিয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দুইজন সদস্যর উপস্থিতিতে অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে বিচার দেই। এমনকি আমি মোবাইল ফোনে বিষয়টি সহকারী শিক্ষা অফিসারকেও জানাই। তারপরেও অদ্যবর্ধি আমি কোন বিচার পাইনি।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন দাবি করে অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষক বিএম ইউনুস আলী বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য স্কুলের কতিপয় শিক্ষকের প্ররোচনায় পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীদের দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

টিএস

সম্পর্কিত বিষয়:

×