মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ জুলাই ২০১৭, ৯ শ্রাবণ ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

‘শিক্ষা পদ্ধতি ও গবেষণাকেই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে’

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০১৫

জনকণ্ঠ : ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলুন।

সৈয়দ সা’দ আন্দালীব : ইতোমধ্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি দেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে এর অবস্থান। এখন আমাদের প্রচেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা। ভবিষ্যতে পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে র‌্যাংকিং হয়, সেখানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে নিয়ে যাওয়া।

জনকণ্ঠ : কী কী কারণে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি অন্য বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যতিক্রম বলে আপনি মনে করেন?

সৈয়দ সা’দ আন্দালীব : অনেক কারণ আছে। আমরা যেহেতু ব্র্যাকের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান, তাই ব্র্যাকের আদর্শ বাস্তবায়নেও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়াও শিক্ষকদের এক সেমিস্টার শিক্ষা পদ্ধতিতে ট্রেনিং করিয়ে সার্টিফিকেট দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার সঙ্গে এখানে রয়েছে রাইটিং সেন্টারও।

সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ নলেজ ক্রিয়েশন (গবেষণা), নলেজ ডিসিমিনেশন (টিচিং) এবং নলেজের ব্যবহার। এই জায়গাগুলোতেই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

পৃথিবীর খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ রয়েছে। যার মাধ্যমে খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষকরা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আসছে। এ বিষয়টিও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক। আমরা শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছি। সম্প্রতি চালু করা হয়েছে ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে ছাত্রদের লাঞ্চ করার মতো ব্যতিক্রমী প্রোগ্রাম। এ ছাড়াও স্কলারস্ প্রোগ্রামে ৩.৭ সিজিপিএপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে দেশের কোন সমস্যা নিয়ে গবেষণা করবে। নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীদের সার্টিফিকেটে এর উল্লেখ থাকবে। এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিনিয়ত সেমিনার-সিম্পোজিয়াম চলছে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি গবেষণার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। প্রথমবারের মতো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কী কী গবেষণা হয়েছে, তা ওয়েবসাইটে দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এবং বাইরে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এটা সামগ্রিক শিক্ষার মান যাচাইয়ে বড় নিয়ামক হবে। এ ছাড়া প্রি-ইউনিভার্সিটি প্রোগাম, প্রথম বর্ষ পরামর্শক টিম, প্রফেসনাল স্কিল ডেভেলমেন্ট প্রোগ্রামের মতো ব্যতিক্রমী কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

জনকণ্ঠ : ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সাভার ক্যাম্পাস সম্পর্কে বলুন।

সৈয়দ সা’দ আন্দালীব : ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সাভার ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ আবাসিক। এটিকে আবাসিক সেমিস্টারও বলতে পারেন। এই সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা নিজেকে আবিষ্কারের সুযোগ পায়। এটা শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এই সেমিস্টারে ইংরেজী শেখা, বাংলাদেশ স্টাডিজ এবং নৈতিকতা ও সংস্কৃতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।

জনকণ্ঠ : ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন।

সৈয়দ সা’দ আন্দালীব : ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সবসময়ই পড়াশোনার পাশাপাশি সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বর্তমানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ৩৫টি ক্লাব রয়েছে। এই ক্লাবগুলো বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমাদের প্রত্যাশা, এই ক্লাবগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম সমাজের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে অবশ্যই কোন না কোন একটি ক্লাবের সদস্য হতে হবে।

জনকণ্ঠ : স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কোন পরামর্শ?

সৈয়দ সা’দ আন্দালীব : তাদের প্রতি আমার পরামর্শ অবশ্যই কমিউনিকেশন স্কিল বাড়াতে হবে। এ ছাড়া ইংরেজী ও গণিতে বিশেষ জোর দিতে হবে।

জনকণ্ঠ : সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সৈয়দ সা’দ আন্দালীব : জনকণ্ঠকেও ধন্যবাদ।

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০১৫

৩০/০৮/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: