১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম


চট্টগ্রামের আফরোজা বেগম ছেলের বিয়ে দিয়েছেন দু’বছর। বৌমা বেসরকারী ব্যাংকে কাজ করে। অথচ এখনো সন্তানহীন। বিপদ আঁচ করেই বৌমাকে নিয়ে ছুটলেন পরিচিত সুপ্রজনন বিশেষজ্ঞের কাছে। পরীক্ষা করতেই ধরা পড়ল ওভ্যুলেশন বন্ধ। ছ’মাস চিকিৎসা চললেও ফল মিলল না। সিলেটের সুনামগঞ্জের ফরিদা বিবি, পেশায় নামী স্কুলের শিক্ষিকা। বয়স ৪৩। দু’সন্তানের জননী। বেশ কিছু দিন ধরেই মেনস্ট্রুয়েশন অনিয়মিত। মোটাও হয়ে যাচ্ছিলেন, সঙ্গে ধরা পড়ল ডায়াবেটিস। তিনিও বেশ কিছু দিন ধরেই ভুগছিলেন পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে। এর থেকে মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল এলোমেলো হয়ে যায়। হরমোন উৎপাদনের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের বেশ কিছু চেনা লক্ষণ রয়েছে। প্রথমেই বলতে হয় মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল অনিয়মিত বা একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, অনেক চেষ্টার পরেও প্রেগনেন্সিতে সাফল্য অধরা থেকে যায়, সারা গায়ে মুখে অস্বাভাবিক চুল বা লোম বৃদ্ধি পায়, মাথার চুল পাতলা হতে থাকে, বহু চেষ্টা করেও দেহের ওজন বৃদ্ধি আটকানো যায় না, হঠাৎ মুড স্যুইং, মানসিক অবসাদ যেন মনকে গ্রাস করে। এর ফলে অবসন্ন ভাব, ঝিমুনি লাগা, এমন কি দিনের বেলাও নাক ডাকতে পারে। অনেকের হয়তো এই সব লক্ষণ একসঙ্গে ধরা পড়ে না, কিন্তু এরমধ্যে থেকে কিছু লক্ষণ যদি মিলে যায় বা কিছু শারীরিক উপসর্গ যদি কমন হয়, তাহলে সাবধান। হতে পারে আপনিও পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের পথে এগোচ্ছেন।

অস্বাভাবিক হরমোন লেভেলের জন্যই সাধারণত পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম দেখা দেয়। এমনিতে এই সমস্যার কোন সঠিক কারণ বের করা যায় না। তবে দেখা গেছে পরিবারে আগে যদি কেই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই মা বা কোন নিকট আত্মীয়ের যদি এ সমস্যা হয়ে গিয়ে থাকে সাবধান হন। দেখা গেছে যারা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে ভোগেন তাদের ওভারি থেকে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ হয়, তাই মনে করা হয় যে যাদের শরীরে বাড়তি টেস্টোস্টেরন থাকে তাদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের উপসর্গ প্রকটভাবে দেখা দেয়। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম হলে শরীরে ইনসুলিন রেজিসটেন্স দেখা দেয়। ফলে ইনসুলিন ক্ষরণ হলেও শরীর তেমনভাবে সাড়া দেয় না। তাই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ে। ফলে বাড়তে থাকে ওজন। মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল অনিয়মিত হয়, বাড়তে থাকে টেস্টোস্টেরনও।

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম হয়েছে কিনা বোঝার জন্য রক্ত পরীক্ষাই যথেষ্ট। রক্ত পরীক্ষা করলে দেহে বাড়তি মাত্রায় টেস্টোস্টেরনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। তাছাড়া আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করলে পলিসিস্টিক ওভারি ধরা পড়ে।সমস্যা জটিল হওয়ার আগে চিকিৎসার দরকার। এখন জরায়ুর ভেতরের দেওয়াল রক্ষার জন্য অনেক উপায় বেরিয়েছে। হতাশ হবেন না, চেষ্টা করলে আপনিও এর থেকে রেহাই পেতে পারেন। চেষ্টা করুন সুষম আহার নিতে। চিনি, নুন, কফি এবং এ্যালকোহল বন্ধ করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন নিয়ম করে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। মনে রাখবেন পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ। লাইফস্টাইল নিয়ন্ত্রণে থাকলে উপসর্গও বশে থাকে।

ড. শাহজাদা সেলিম

হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

মোবাইল- ০১৯১৯ ০০০০২২