ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— দাজ্জাল কি ইতোমধ্যেই পৃথিবীতে এসে গেছে? নাকি বর্তমান বিশ্বনেতারাই তার আগমনের পথ তৈরি করছেন?
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, দাজ্জাল হবে কিয়ামতের আগে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় ফিতনা। বিভিন্ন হাদিসে তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। সহীহ মুসলিম–এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, দাজ্জাল পৃথিবীতে ৪০ দিন অবস্থান করবে। তাকে একচোখা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং তার কপালে “কাফির” লেখা থাকবে। আরও বলা হয়েছে, ইসফাহান থেকে ৭০ হাজার ইহুদি তাকে অনুসরণ করবে।
মূলধারার অনেক ইসলামী আলেমের মতে, দাজ্জালের আগমনের আগে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ফিতনা ও অস্থিরতা দেখা দেবে। মানুষ সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য মনে করবে, মুসলিম উম্মাহ দুর্বল ও বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং পৃথিবীতে অনাহার ও অশান্তি বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে সেই আলামতের সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকেই। তাদের মতে চলমান যুদ্ধ, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর বিতর্কিত বক্তব্য, আরব রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক বিভক্তি এবং ফিলিস্তিন–এ মানবিক সংকট—এসব ঘটনা দাজ্জালের আগমনের জন্য এক ধরনের পটভূমি তৈরি করছে।
সামাজিক মাধ্যমে আরও একটি বিতর্ক দেখা গেছে। সেখানে কেউ কেউ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে দাজ্জালের সঙ্গে তুলনা করছেন। ইরানের ধর্মীয় নেতা সায়েদ হাসান আমেলী এক খুতবায় ট্রাম্পকে ‘একচোখা দাজ্জাল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। একইভাবে শায়খ নাঈম কাসেম মার্কিন–ইসরাইলি শক্তিকে পরোক্ষভাবে “দাজ্জালী শক্তি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এছাড়া বিভিন্ন দেশে শতাধিক সুন্নি ও শিয়া আলেমের একটি যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে কোরআনের ভাষায় “পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টিকারী” বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়।
তবে ইসলামী গবেষকরা এ ধরনের তুলনা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তুরস্কের ইসলামী চিন্তাবিদ হাইরেত্তিন কারামান বলেন, কোনো জীবিত মানুষকে সরাসরি দাজ্জাল বা তার পথপ্রদর্শক বলে ঘোষণা করা ধর্মীয়ভাবে সঠিক নয় এবং এটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী সূত্রে দাজ্জালের আগমন নিয়ে নির্দিষ্ট অনেক আলামত উল্লেখ থাকলেও বর্তমান কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আবেগ নয়, বরং সতর্ক ও প্রামাণ্য আলোচনা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নুসরাত








