নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও ॥ ঠাকুরগাঁও পৌরসভার স্থগিত হওয়া তিনটি কেন্দ্রে মঙ্গলবার নতুন করে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে কিছু ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিলেও কিছু ভোটার এবারও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর এক কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে হামলা চালিয়ে ভোট কেন্দ্র দখল করে নেয়। তাঁরা ওই কেন্দ্রের ব্যালট পেপারও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হামলাকারীরা বেসরকারি টেলিভিশনের দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও গাড়ি ভাংচুর করে। একই ওয়ার্ডের গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে একদল যুবক হামলা চালিয়ে ব্যালট বাক্স ভাংচুর করে ও ৬শ’ ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি মহিলা কলেজ পুরুষ ভোট কেন্দ্রে ভোটের হারের সঙ্গে অবশিষ্ট ব্যালটের পরিমাণের গরমিল পাওয়া যায়। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আ ফ ম ফজলে রাব্বীর প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন উল্লিখিত তিনটি ভোট কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১২ জানুয়ারি মঙ্গলবার পুনরায় ওই ৩টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী তহমিনা আখতার মোল্লা, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম সোলায়মান আলী সরকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌরসভার ২১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৮টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে মির্জা ফয়সল আমীন ১৬ হাজার ৩২৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী তহমিনা আখতার মোল্লা পেয়েছেন ১১ হাজার ৬৫১ ভোট। আর এস এম সোলায়মান আলী সরকার ৪ হাজার ১১৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। মেয়র ছাড়াও এই ভোটে সাধারণ দুই কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী আসনের দুই কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন।


