ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

চট্টগ্রামে কানাডার হাইকমিশনার

ইন্দো-প্যাসিফিকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাংলাদেশ 

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশিত: ২০:০৯, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ইন্দো-প্যাসিফিকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাংলাদেশ 

ড. লিলি নিকোলস। ছবি: সংগৃহীত

ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে কানাডা এ অঞ্চলের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের এখনই উপযুক্ত সময়। এই লক্ষ্যে দু’দেশের তিনজন করে ছয়জনের একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে। উভয় দেশের মধ্যে বিনিয়োগে বৈচিত্রতা আনতে কানাডা আগ্রহী। 

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং কানাডা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ আয়োজনে ‘কানাডা-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’ বিষয়ক এক সভায় কথাগুলো বলেন ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার ড. লিলি নিকোলস। তিনি বলেন,  শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ইনফরমেশন টেকনোলজি, ব্লু ও গ্রিন টেকনোলজি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগে আগ্রহী কানাডা। 
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে এফডিআই অর্থাৎ সরাসরি কানাডিয়ান বিনিয়োগ হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষে শীঘ্রই কানাডার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করেন হাইকমিশনার।  

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে কানাডা। দু’দেশের মধ্যে প্রায় ২ দশমিক ২ থেকে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি এবং কানাডা থেকে বাংলাদেশ ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করছে। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি হলেও পণ্য বৈচিত্র্যকরণের জন্য নন- ট্রেডিশনাল পণ্যের জন্য তিনি কানাডার সহযোগিতা কামনা করেন।  

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয় এ সভা। চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার মো. রুহুল আমিন, সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, কানাডা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মাসুদ রহমান, চেম্বার পরিচালক নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন, প্রাক্তন সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর হাজ্জাজ, প্রাক্তন পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবিদা মোস্তফা, জেএফ (বাংলাদেশ)’র সিইও রাহবার আলম আনোয়ার, হাইকমিশনের সিনিয়র ট্রেড কমিশনার অ্যাঞ্জেলা ডার্ক এবং রিলায়েন্স এসেট্স্ এন্ড ডেভেলাপমেন্টস (বিডি) লিমিটেডের পরিচালক ওমর মুক্তাদির।

 এ সময় চেম্বার পরিচালকবৃন্দ মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, অঞ্জন শেখর দাশ, মো. ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ নাসিরুল আলম ফাহিম এবং বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

চট্টগ্রাম চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার মো. রুহুল আমিন বলেন, চট্টগ্রামে বাস্তবায়িত হচ্ছে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং দেশের সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর। 

এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির আওতায় চট্টগ্রামে বিনিয়োগ করার আহবান জানান তিনি। এছাড়া কানাডিয়ান ব্যবসায়ীদের তথ্য প্রাপ্তিতে সুবিধার জন্য চিটাগাং চেম্বারে কানাডিয়ান হেল্প ডেস্ক চালু করারও আহবান জানান তরফদার মো. রুহুল আমিন।  

কানাডা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদ রহমান বলেন, বাংলাদেশে রয়েছে শুল্কমুক্ত সুবিধা। এই সুবিধা কাজে লাগাতে হলে পণ্যের বৈচিত্রকরণে ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। 

এজন্য বাংলাদেশে কানাডিয়ান বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা) কানাডায় কান্ট্রি ডেস্ক চালু করেছে। এছাড়া উভয়দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক পলিসি এগ্রিমেন্টের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 
 

 

এসআর

×