ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১

সমস্যায় জর্জরিত বাটাজোর ক্যাম্প

কোমরে অস্ত্র বেঁধে ঘুমোয় পুলিশ

প্রকাশিত: ০৪:২৩, ২৩ নভেম্বর ২০১৬

কোমরে অস্ত্র বেঁধে ঘুমোয় পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ অস্ত্র ও গুলি হারালে চাকরি হারাতে হবে। তাই কোমরে অস্ত্র বেঁধে রাতে ঘুমোতে যায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর আরআরএফ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা। অস্ত্রাগার, সেন্ট্রিপোস্ট ও নিরাপত্তা দেয়াল না থাকার কারণেই আতঙ্কের মধ্যেই পুলিশ সদস্যদের দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। সরেজমিনে জানা গেছে, এককালের নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা অধ্যুষিত বাটাজোর বন্দর সংলগ্ন উত্তর পাশে মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী স্থানে সর্বহারা দমনের জন্য ৯০ দশকে পুলিশ ক্যাম্পটি বসানো হয়। শুরু থেকে অদ্যাবধি বাটাজোর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ভবনে ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হয়। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ওই একই ভবনেই চলছে ক্যাম্পের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন যাবত মেরামত কিংবা সংস্কার না করার কারণে ভবনটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। ওই ভবনের দেয়ালের আস্তর খসে পড়েছে। টিনের চালা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে সবকিছু ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ক্যাম্পের সবকটি দরজা-জানালার অবস্থা খুবই নাজুক। এখানে অস্ত্রাগার ও সেন্ট্রিপোস্ট না থাকায় এবং ক্যাম্পটির একদিকে মহাসড়ক অন্যদিকে আরও একটি সড়ক থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন পুলিশ কর্মীরা। বাউন্ডারি ওয়াল না থাকার কারণে ক্যাম্পের সামনে প্রতিদিন বসে পানবরজের উপকরণ (বাঁশ, চেরা ও চটি) বিক্রির হাট। এতে পুলিশ কর্মীদের চলাচল চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। ক্যাম্পের সামনের বারান্দায় মাটি দিয়ে সেন্ট্রিপোস্ট তৈরি করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জানা গেছে, এ জরাজীর্ণ ভবনে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ২০ পুলিশ সদস্য। এদের মধ্যে একজন এসআই, দুইজন এএসআই, দুইজন নায়েক ও ১৫ জন কনস্টেবল। তাদের জন্য নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। নিজস্ব ল্যাট্রিন না থাকার কারণে এখানে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা নিরুপায় হয়ে হাসপাতালের ল্যাট্রিন ব্যবহার করছেন। তারা গোসলের কাজ সারছেন অন্যের পুকুরে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্যাম্পের পুলিশ কর্মীরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ক্যাম্পে অস্ত্রাগার না থাকায় তারা অস্ত্র ও গুলি নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন। তারা অস্ত্র হারানোর ভয়ে রাতে ঘুমোনোর সময় নিজের অস্ত্র কোমরের সঙ্গে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন। আর গুলি রাখেন বিছানার নিচে। রাতে অস্ত্র ও গুলি সঙ্গে নিয়েই পায়খানা প্রসাব করার জন্য তাদের বাথরুমে যেতে হয়। এ ব্যাপারে বাটাজোর আরআরএফ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক সৈয়দ কবির হোসেন জানান, ক্যাম্পের সমস্যা নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা সত্ত্বেও কোন সুফল মেলেনি।
×