ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

যাপিত জীবন

আলো-আঁধারীর মায়া

সাইফুল হক মিঠু

প্রকাশিত: ২০:৫৬, ৮ মার্চ ২০২৬

আলো-আঁধারীর মায়া

সামনেই ঈদ। রোজার ব্যস্ততার মাঝেও চলছে ঈদের কেনাকাটা। সেই সাথে চলছে নিজের ঘরটাকেও সাজিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। এবার ঘরকে সাজিয়ে নিতে পারেন নানারকম আলো দিয়ে। বাজারে নানা ধরনের ল্যাম্পশেড পাওয়া যায়। যেমন- স্ট্যান্ড ল্যাম্পশেড, ঝুলন্ত ল্যাম্পশেড বা টেবিল ল্যাম্পশেড। স্ট্যান্ড ল্যাম্পশেডগুলো ঘরের কোনো কোণে রাখতে পারেন। ঘরের জায়গা কম থাকলে ঝুলন্ত ল্যাম্পশেড বা টেবিল ল্যাম্পশেড ব্যবহার করা যেতে পারে। শোবার ঘরে টেবিল ল্যাম্পশেড রাখতে পারেন। ড্রইংরুমে ঝুলন্ত বা স্ট্যান্ড ল্যাম্পশেড মানানসই।
গোলাপি, নীল, বেগুনি, কমলা, সবুজসহ অন্যান্য উজ্জ্বল রংয়ের ল্যাম্পশেড ব্যবহার করা যেতে পারে। বসার ঘরের ক্ষেত্রে হালকা রঙের ল্যাম্পশেড বেছে নিন। শোবার ঘরে গাঢ় নীল, সবুজ, লাল, হলুদ, ধূসর, নীলাভ ধূসর, ঘন সবুজ ধরনের ল্যাম্পশেড ভালো হবে। বাচ্চাদের ঘরে ঝুলন্ত ল্যাম্পশেড ব্যবহার করা উত্তম। ঘরটা ছোট হলে হালকা রঙের ল্যাম্পশেড কিনতে হবে। এতে ঘর বড় দেখাবে। ঘরের দেয়ালের রঙের সঙ্গে বিপরীত (কনট্রাস্ট) কোনো উজ্জ্বল রং যেমন লাল, কমলা, হলুদ ও বেগুনি রঙের ল্যাম্পশেড ব্যবহার করলে ঘরে একঘেয়ামি ভাবটা থাকবে না। টেবিল ল্যাম্প ঘরে স্নিগ্ধ ভাব এনে দেয় ও পর্যাপ্ত আলো ছড়ায়। পড়ার ঘর, শোবার ঘর বা বসার ঘরে এই ধরনের ল্যাম্পশেড রাখতে পারেন। খাবার ঘরে ল্যাম্পশেড রাখতে একই রকম ল্যাম্পশেড দুই দিকে মিলিয়ে রাখুন, দেখতে ভাল লাগবে। শোবার ঘরে আলো সরাসরি চোখে পড়লে তা অস্বস্তিকর হয়ে উঠে তাই পুরোটা ঢেকে থাকবে এমন কোনো ল্যাম্পশেড ব্যবহার করে শোবার ঘরকে প্রাণবন্ত করতে পারেন। ল্যাম্পশেড এমন স্থানে বসাতে হবে যেখান থেকে আলো ছড়িয়ে পড়তে পারে। ঘরের কোণে রাখতে চাইলে তার পাশে কোনো উঁচু ও ভারি কাজের আসবাব রাখবেন না। ল্যাম্পশেড যাতে বাচ্চাদের নাগালের বাইরে থাকে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
কোথায় পাবেন
আড়ং, আলমাস, কে ক্রাফটসহ অনেক ফ্যাশন হাউসের আউটলেটে কারুকার্যময় ল্যাম্পশেড পাবেন। এছাড়া সোবাহানবাগ, নিউমার্কেট, দোয়েল চত্বর ও গুলশানের কয়েকটি দোকানে হরেক দামের ল্যাম্পশেড পাওয়া যায়। দাম সাধারণত নির্ভর করে ল্যাম্পশেডের কারুকার্য এবং এতে কি ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে তার ওপর।
সময়ের বিবর্তনে ল্যাম্পশেডে এসেছে ভিন্নতা। পিতল কিংবা কাঁচের ল্যাম্পশেডের পাশাপাশি এখন কাঠ, বাঁশ, বেত দিয়ে তৈরি ল্যাম্পশেডও অনেক সহজলভ্য। ১৭ শতকের শেষের দিকে মশাল আলো সাজিয়ে প্যারিসের রাস্তা আলোকিত করার আয়োজন শুরু করা হয়। মূলত তখন থেকেই ল্যাম্পশেডের ধারণা আসে। ১৮৭৯ সালে বৈদ্যুতিক বাল্ব আসলে ল্যাম্পশেড তার নব যাত্রা শুরু করে। ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়ার সময় বাহারী ল্যাম্পশেড বানানোর তোড়জোড় শুরু হয়। মূলত সমানভাবে আলোর বণ্টন এবং আলোর বিচ্ছুরণ থেকে চোখ বাঁচাতেই ল্যাম্পশেডের প্রয়োজন পড়ে। পরে অবশ্য দেখা যায় ল্যাম্পশেড ব্যবহারে ঘরে নান্দনিক মাত্রা যোগ হয়। 

প্যানেল/মো.

×