রমজান মাসটা সারাদিন কেমন যেন শান্ত আর স্নিগ্ধতায় ভরপুর থাকে। কোরআনের শব্দ, দোয়ার গভীরতা, রান্নার ব্যস্ততা, ইফতারের সুঘ্রাণ আর আজানের অপেক্ষা- সব মিলিয়ে বেলাশেষে যেন সবাই একত্রে বেহেশতের মেহমান হয়ে উঠে। অনেক বাসাতেই নবীন-প্রবীণ রয়েছে, যারা রোজা রাখে। ঘরে নামাজ রোজার পরিবেশ থাকলে ছোট শিশুটিও সবাইকে দেখে তাতে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করে। ৭/৮ বছরের বাচ্চারা রীতিমতো জিদ করে রোজা রাখার জন্য। ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ নর-নারীর জন্যে রোজা ফরয। বয়সন্ধিকালের লক্ষণ শুরু হলেই তার জন্যে রোজা ফরয হয়ে যায়। তবে ৭ বছর বয়স থেকে ছোটদের নামাজ রোজার জন্য অভ্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে। আপনার ঘরের ছোট সদস্যটি যদি রোজার জন্য বায়না করে তবে তাকে উৎসাহিত করুন। জাওয়াদের বয়স ৭ শেষ হয়েছে মাত্র। এ বছর সে সব রোজা রাখার আবদার করেছে। তার মা প্রথমে শঙ্কিত হলেও পরে আর আপত্তি করেনি। এ পর্যন্ত সে সব রোজাই করেছে। তার মা বলেন, অভ্যাস করতে দিচ্ছি। যে কয়টা পারে রাখুক। তবে সে স্বাভাবিক আছে। সারাদিন খেলাধুলা করছে। কখনো আমাকে ইফতার তৈরিতেও সাহায্য করছে। তিনি ইফতারে জাওয়াদকে ঘরে তৈরি ফলের জুস দিচ্ছেন তার এক্সট্রা এনার্জির জন্যে। এছাড়া ফল, দুধ, ডিমও দিচ্ছেন যাতে সে সঠিক পুষ্টি পায় এবং সতেজ থাকে।
এ সময় ছোটমনিকে নানা কাজে ব্যস্ত রাখতে পারেন, যাতে সে ক্লান্ত অনুভব না করে। স্কুলগুলো এক মাসেরও বেশি সময় বন্ধ। তাদের অনেক পড়াও দিয়েছে স্কুল থেকে। দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় সেই পড়া তৈরিতে ব্যস্ত রাখলে তাদের পড়া যেমন শেষ হবে, তেমনি কিছুটা সময়ও কাটবে। এছাড়া ছোট ছোট সুরা, দোয়া তাদের শিখাতে পারেন। সাথে নিয়ে নামাজ পড়ানোর অভ্যাস করাতে পারেন। আপনি কোরআন পড়তে বসলে তাদেরও আরবি পড়তে বসিয়ে দিন। সাধারণত বাসায় দাদা দাদি বা নানা নানি থাকলে বাচ্চারা তাদের অনেক বেশি অনুকরণ করে, মাথায় উড়না বা টুপি দিয়ে নামাজ ও আরবি পড়তে বসে যায়। তাদের দান করতে এবং অসহায়দের ইফতার করাতে উৎসাহিত করুন। ফেতরার টাকাটা তাদের দিয়ে দান করুন। এতে তারা ধর্মীয় দিকগুলো যেমন শিখবে, তেমনি তাদের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধও জাগ্রত হবে। রোজায় প্রতিবেশীদের ইফতার প্রদানের কাজটিও তাদের দিয়ে করান। এতে তারা সৌহার্দ্য ও প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হবে। তেমনি অপরকে সহযোগিতা করার মনোভাবও তৈরি হবে।
বাড়ির যারা বয়সে একটু বেশি প্রবীণ, রোজা রাখছেন, তাদের প্রতিও শিশুদের মতোই খেয়াল রাখতে হবে। আলাদা করে পুষ্টিকর খাবার ও পানীয় দিতে হবে। অনেকের ক্ষেত্রে তিনবেলার ওষুধ দুইবেলা খেতে হচ্ছে। আবার কেউ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা নানা রোগে আক্রান্ত, কিন্তু রোজা বাদ দিচ্ছেন না। তাদের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে এবং অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরমর্শে রাখতে হবে। ওষুধ, শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবারও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দিতে হবে।
রোজার দিনে বেলাশেষে প্রায় সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সঙ্গে সবার জন্য সারাদিন খেটে যাওয়া মানুষটির দিকেও ভালোবাসা ও মায়ার দৃষ্টিতে তাকাবেন। বাড়ির অন্যরা তার কাজে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করবেন। যাতে সমস্ত কাজ তাকে একলা করতে না হয়। কোনো একটা সময় তাকে একটু আরাম করতে দিবেন। তবেই রোজার সার্থকতা আসবে।
সালমা আহমেদ
রমজান মাসটা সারাদিন কেমন যেন শান্ত আর স্নিগ্ধতায় ভরপুর থাকে। কোরআনের শব্দ, দোয়ার গভীরতা, রান্নার ব্যস্ততা, ইফতারের সুঘ্রাণ আর আজানের অপেক্ষা- সব মিলিয়ে বেলাশেষে যেন সবাই একত্রে বেহেশতের মেহমান হয়ে উঠে। অনেক বাসাতেই নবীন-প্রবীণ রয়েছে, যারা রোজা রাখে। ঘরে নামাজ রোজার পরিবেশ থাকলে ছোট শিশুটিও সবাইকে দেখে তাতে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করে। ৭/৮ বছরের বাচ্চারা রীতিমতো জিদ করে রোজা রাখার জন্য। ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ নর-নারীর জন্যে রোজা ফরয। বয়সন্ধিকালের লক্ষণ শুরু হলেই তার জন্যে রোজা ফরয হয়ে যায়। তবে ৭ বছর বয়স থেকে ছোটদের নামাজ রোজার জন্য অভ্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে। আপনার ঘরের ছোট সদস্যটি যদি রোজার জন্য বায়না করে তবে তাকে উৎসাহিত করুন। জাওয়াদের বয়স ৭ শেষ হয়েছে মাত্র। এ বছর সে সব রোজা রাখার আবদার করেছে। তার মা প্রথমে শঙ্কিত হলেও পরে আর আপত্তি করেনি। এ পর্যন্ত সে সব রোজাই করেছে। তার মা বলেন, অভ্যাস করতে দিচ্ছি। যে কয়টা পারে রাখুক। তবে সে স্বাভাবিক আছে। সারাদিন খেলাধুলা করছে। কখনো আমাকে ইফতার তৈরিতেও সাহায্য করছে। তিনি ইফতারে জাওয়াদকে ঘরে তৈরি ফলের জুস দিচ্ছেন তার এক্সট্রা এনার্জির জন্যে। এছাড়া ফল, দুধ, ডিমও দিচ্ছেন যাতে সে সঠিক পুষ্টি পায় এবং সতেজ থাকে।
এ সময় ছোটমনিকে নানা কাজে ব্যস্ত রাখতে পারেন, যাতে সে ক্লান্ত অনুভব না করে। স্কুলগুলো এক মাসেরও বেশি সময় বন্ধ। তাদের অনেক পড়াও দিয়েছে স্কুল থেকে। দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় সেই পড়া তৈরিতে ব্যস্ত রাখলে তাদের পড়া যেমন শেষ হবে, তেমনি কিছুটা সময়ও কাটবে। এছাড়া ছোট ছোট সুরা, দোয়া তাদের শিখাতে পারেন। সাথে নিয়ে নামাজ পড়ানোর অভ্যাস করাতে পারেন। আপনি কোরআন পড়তে বসলে তাদেরও আরবি পড়তে বসিয়ে দিন। সাধারণত বাসায় দাদা দাদি বা নানা নানি থাকলে বাচ্চারা তাদের অনেক বেশি অনুকরণ করে, মাথায় উড়না বা টুপি দিয়ে নামাজ ও আরবি পড়তে বসে যায়। তাদের দান করতে এবং অসহায়দের ইফতার করাতে উৎসাহিত করুন। ফেতরার টাকাটা তাদের দিয়ে দান করুন। এতে তারা ধর্মীয় দিকগুলো যেমন শিখবে, তেমনি তাদের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধও জাগ্রত হবে। রোজায় প্রতিবেশীদের ইফতার প্রদানের কাজটিও তাদের দিয়ে করান। এতে তারা সৌহার্দ্য ও প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হবে। তেমনি অপরকে সহযোগিতা করার মনোভাবও তৈরি হবে।
বাড়ির যারা বয়সে একটু বেশি প্রবীণ, রোজা রাখছেন, তাদের প্রতিও শিশুদের মতোই খেয়াল রাখতে হবে। আলাদা করে পুষ্টিকর খাবার ও পানীয় দিতে হবে। অনেকের ক্ষেত্রে তিনবেলার ওষুধ দুইবেলা খেতে হচ্ছে। আবার কেউ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা নানা রোগে আক্রান্ত, কিন্তু রোজা বাদ দিচ্ছেন না। তাদের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে এবং অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরমর্শে রাখতে হবে। ওষুধ, শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবারও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দিতে হবে।
রোজার দিনে বেলাশেষে প্রায় সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সঙ্গে সবার জন্য সারাদিন খেটে যাওয়া মানুষটির দিকেও ভালোবাসা ও মায়ার দৃষ্টিতে তাকাবেন। বাড়ির অন্যরা তার কাজে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করবেন। যাতে সমস্ত কাজ তাকে একলা করতে না হয়। কোনো একটা সময় তাকে একটু আরাম করতে দিবেন। তবেই রোজার সার্থকতা আসবে।
প্যানেল/মো.








