ছবি: এস কে জায়েদ
‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার... আসছে সেদিন বছর ঘুরে/ দিচ্ছে রে ডাক আপন সুরে,/ যাচ্ছি আমার স্বপ্ন পুরে/ চেনা পথের বহু দূরে’
প্রতি বছর রোজা যত শেষ হতে থাকে, মনের মধ্যে এই কথাগুলোর গুনগুনানি তত বাড়তে থাকে। প্রিয়জনদের জন্য কেনাকাটা, বাড়ি ফিরে কী কী করবে তার নানা রকম পরিকল্পনা করতে থাকে, নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে চাওয়া মানুষগুলো। এই সুরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হয় বাড়ি ফেরার নানা ভিডিও। যাদের বর্তমান স্থান ছেড়ে কোথাও যাওয়া হয় না, তাদেরও চোখের কোণ ভিজে ওঠে এই সুরে। কিন্তু আমরা কি কখনো তার বিপরীত দিকটা দেখেছি? বাড়ি ফেরার মানুষগুলোর অপেক্ষায় যারা আছে, তাদের অনুভূতিগুলো আমাদের ভাবনায় আসে না।
তাদেরও মনের বেতর আকুলি-বিকুলি করে- আপনজনদের জন্য। দিন যেন ফুরায় না। ঘরে কত কাজ- বাড়িঘর পরিষ্কার করা, ঘর সাজানো, বিছানায় নতুন চাদর, জানালায় পর্দা টানানো, কার কি প্রয়োজন সেগুলো গুছিয়ে রাখা, সবার পছন্দের খাবার আর উপহার সংগ্রহ করা। আরও কত কি! গ্রামের মা বোনেরা পিঠা পুলি তৈরির আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে উঠে। উঠোনে কোথায় বসে সবাই রাত জেগে গল্প করবে তার পরিকল্পনা। উঠোনটা নতুন করে লেপে ঝকঝকে করা। বাবা বাজার করে রান্নাঘর ভরে ফেলে। পুকুর থেকে মাছ ধরার ব্যবস্থা করেন। ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনি আসলে তাদের সঙ্গে নিয়ে তাজা মাছ ধরে রান্না করে খাওয়াবেন। বাড়িতে বিশাল উৎসব লেগে যায়।
শহরে এমন হৈ হৈ আয়োজন না হলেও, খুশি আর আয়োজনটা সবারই এক। গ্রামে হয়তো সবার আলাদা ঘর পাওয়া যায়। সবাই শহরমুখী হওয়ায় ঘরগুলো খালিই পড়ে থাকে। ঝেরে মুছে তৈরি করতে হয়। শহরে সব সময় সবার আলাদা ঘর হয় না। সেক্ষেত্রে কে কোন ঘরে থাকবে, কোন ফ্লোরে বিছানা পাতা হবে, কয়টা লেপ-কাঁথা-বালিশ লাগবে, সেগুলো কীভাবে গুছিয়ে রাখবে, কার কী পছন্দ- সে অনুযায়ী রান্নার পরিকল্পনা- ইত্যাদি নিয়ে সবার ব্যস্ততায় দিন কাটে। ছোটরা বড়দের তালিকা করে দেয়- এবার ঈদে তার কী কী চাই। আর গুনতে থাকে- আর কতদিন!
ঘরে থাকা ছোট খালা, ফুপু, চাচাদেরও অপেক্ষার শেষ হয় না। ভাই বোনের ছেলেমেয়েদের জন্য কেনাকাটা, তাদের নিয়ে কোথায় ঘুরতে যাবে তার পরিকল্পনা ইত্যাদিতে। ছোটরাও যেন বাড়ির এই ছোট খালা, ফুপু আর চাচার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। শূন্য বাড়ি সবার কলকাকলিতে আবার পূর্ণ হয়ে উঠে। ঈদের উপহারগুলো দেখতে বসে হয় আরেক উৎসবমুখর পরিবশে। খুব অল্পদিনের জন্যে হলেও সবাই এই সময়টার দিন গুনে বছর ভরে। সবাই মিলে গেয়ে উঠে- ‘মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ/ তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে/ শোন্ আসমানি তাগিদ...’
প্যানেল/মো.








