ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

বাবার অনুপ্রেরণায় বিসিএস ক্যাডার মানস

চাকরি বাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৮, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বাবার অনুপ্রেরণায় বিসিএস ক্যাডার মানস

৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন মানস কির্ত্তনীয়া

৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন মানস কির্ত্তনীয়া। তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায়। তার বাবা নির্মলেন্দু কির্ত্তনীয়া ও মা ঊষা রাণী বিশ্বাস স্কুল শিক্ষক। মানস রঘুনাথপুর দীননাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (কোডা) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ থেকে অনার্স এবং প্রাণরসায়ন বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
মানস কির্ত্তনীয়া জানাচ্ছেন তার জীবনযাপন ও বিসিএস জয়ের গল্প-
ছেলেবেলা : আমার ছেলেবেলা কেটেছে গোপালগঞ্জ সদর থানার রঘুনাথপুর গ্রামে। একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিশুর গল্প যেমন হয় তেমন করেই জীবন কেটেছে আমার। স্কুল ছুটির পর মাঠে খেলাধুলা, সবাই দলবেঁধে গোসল, হৈ-হুল্লোড়ের মাঝেই জীবন কেটে গেছে। বাবা-মায়ের অনুশাসনও ছিল জীবনের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। আমি মাধ্যমিক পাস করেছি বাবার স্কুল থেকেই। আমার বাবা একজন আদর্শ শিক্ষক, যার আদর্শে আমি বড় হয়েছি। বাবা আমাকে সব সময় তার কাছে পড়তে আসা ভালো ছাত্রদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন। যাতে আমার মধ্যে ভালো ছাত্রের গুণাবলী তৈরি হয়।
বিসিএসের সিদ্ধান্ত : আমি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম সারির ছাত্র ছিলাম। তাই সবার একটা আশা ছিল আমি মেডিক্যালে পড়ব। আমারও ইচ্ছা ছিল দেশের বাইরে মেডিক্যালে পড়ব। রাশিয়ার একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তিও পাই। কিন্তু রাশিয়ান ভাষায় পড়াশোনা করতে হবে বলে ভাষা ভিন্নতার কারণে বাবা-মা আমাকে যেতে সায় দেননি। তার ওপরে আমি পরিবারের একমাত্র ছেলে। পরে ভর্তি হই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু আমার মন পড়ে থাকে মেডিক্যালে। এসব কারণে আমি এই বিষয়টার সঙ্গে খাপ খাইয়ে উঠতে পারিনি। তাই আমি একটু পিছিয়ে পড়ি সবার থেকে। ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় আমার এক পরিচিত ভাইয়ের অদ্ভুত একটা ব্যবহার ছিল আমার টার্নিং পয়েন্ট। তখনই আমি প্রতিজ্ঞা করি, আমি তার চেয়ে ভালো ক্যাডার হবো এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমি আমার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি।
বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি : প্রিলিমিনারির জন্য একটা সিরিজের বই পড়ি। একই বিষয়ের বেশি বই পড়লে কনফিউশন তৈরি হয়। আর বেশি বেশি মডেল টেস্ট দিলে যে উপকার হয়, তা হলো নিজেকে যাচাই করতে পারা। আমার বিশ্বাস ছিল, লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে পারব। হুবহু বই থেকে মুখস্থ করাটা ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। কারণ একই লেখা আরও অনেকেই লিখবেন। নিজস্ব কিছু কৌশল থাকতে হবে। লিখিত পরীক্ষার খাতার লেখা পরিষ্কার থাকতে হবে। যাতে স্যারদের নজরে পড়ে। সবার দুটো জোন থাকবে- স্ট্রং জোন আর উইক জোন। আমার টার্গেট ছিল স্ট্রং জোনকে স্ট্রংগার করা। আর উইক জোনকে অ্যাভারেজে আনা। এই স্ট্র্যাটেজি প্রিলিমিনারি, লিখিত- দুটোর জন্যই কার্যকরী। আর ভাইভায় কমন বিষয়গুলো যেমন- মুক্তিযুদ্ধ, আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম, জেলা ইত্যাদি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোতে ভুল করা যাবে না। সম্প্রতি সব বিষয় সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। আপনার পছন্দের তালিকার বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। ইংরেজিতে কথা বলার ভালো দক্ষতা থাকতে হবে।
বিসিএসের জন্য যেসব বই পড়েছেন : পরীক্ষার জন্য আমি বাজারের সাধারণ গাইড বই-ই পড়েছি। আমার বই পড়ার শখ আছে। তাই পরীক্ষার আগেই বিভিন্ন বই পড়া হয়েছে। এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কাজে দিয়েছে।
অনুপ্রেরণা পেয়েছেন যাদের থেকে : আমার বাবা আমাকে সর্বক্ষণ সহযোগিতা করেছেন। তিনি আমাকে সব সময় মানসিকভাবে শক্ত থাকতে অনুপ্রাণিত করেছেন। এটি আমাকে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে। আমার স্ত্রীও আমাকে সব সময় সব বিষয়ে সাহায্য করেছেন। আমার জীবনে আমার মায়ের একটা প্রচণ্ড প্রভাব আছে। মায়ের স্কুলের ছাত্র আমি। মায়ের আশা ছিল, আমি ক্যাডার হতে পারলে তার সব ইচ্ছা পূরণ হবে। সৃষ্টিকর্তা সব ইচ্ছা পূরণ করেছেন।
সিভিল সার্ভিসে কেন : সিভিল সার্ভিসের বৈচিত্র্যতা এবং মানুষের সঙ্গে মেশার যে অবারিত সুযোগ, এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের ভেতরে সিভিল সার্ভিসের একটা সম্মান আছে। সব মিলিয়ে নিজের ভালো লাগা থেকে আসা।
কীভাবে দেশের সেবা করতে চান? : দেশের সেবা কতটা করতে পারব জানি না। তবে আমার সততা এবং কর্মনিষ্ঠা বজায় রাখার চেষ্টা করব। কর্মক্ষেত্রে আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে, দেশমাতৃকার সেবায় নিজেকে উজাড় করে দেয়া এবং সুনামের সঙ্গে চাকরি জীবনে ইতি টানা।  
চাকরি বাজার ডেস্ক

×