ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এবং গাজার যুদ্ধবিরতি স্থায়ীভাবে বজায় রাখতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। সংগঠনটি আরও দাবি জানিয়েছে, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানে পরিষদকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ওআইসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে তুরস্কের উপ-রাষ্ট্রদূত আসলি গুভেন। তিনি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্পের প্রচেষ্টা এবং চলতি মাসের শুরুতে গাজার জন্য স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানাই।”
গুভেন বলেন, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তির জন্য বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পরিষদের এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
তুর্কি এই কূটনীতিক আরও বলেন, পরিষদকে অবশ্যই গাজা ও সমগ্র অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বর্তমান গতি ও অগ্রগতিকে বজায় রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “দুই বছরের দীর্ঘ গাজা যুদ্ধ মানবিক ও আর্থিকভাবে যে বিপুল ক্ষতি ডেকে এনেছে, তা পরিষদের গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।”
গুভেন বলেন, এই যুদ্ধে ৬৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ নাগরিক। এছাড়া নিহত হয়েছেন চিকিৎসাকর্মী, জাতিসংঘ সংস্থার কর্মী এবং সাংবাদিকরাও।
বৈঠকে ওআইসি সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডেরও তীব্র নিন্দা জানায়। সংস্থাটি অধিকৃত গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে “অবৈধ ও শূন্য” আখ্যা দিয়ে দখলকৃত সব আরব ভূমি থেকে অবিলম্বে, সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে ইসরায়েলের প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
গুভেন বলেন, “আমরা আশাবাদী, সাম্প্রতিক শান্তি পরিকল্পনা ফিলিস্তিনসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে বহুল প্রত্যাশিত শান্তির সূচনা ঘটাবে।”
আফরোজা








