//

ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে ৮৫ হ্রদের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১৪, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে ৮৫ হ্রদের সন্ধান

অ্যান্টার্কটিকার পুরু বরফের নিচে লুকিয়ে রয়েছে রহস্যময় এক হ্রদের জগৎ

অ্যান্টার্কটিকার পুরু বরফের নিচে লুকিয়ে রয়েছে রহস্যময় এক হ্রদের জগৎ, যেখানে ৮৫টি লুকানো হ্রদের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এসব সাবগ্লাসিয়াল লেক পৃথিবীর পৃষ্ঠের কয়েক কিলোমিটার নিচে অবস্থান করছে এবং বরফের চাদর যেভাবে চলাচল করছে তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে হিমবাহের স্থিতিশীলতা ও গোটা বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ওপর। খবর ইয়াহু নিউজের।
এখন স্যাটেলাইট তথ্যের সাহায্যে বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের নিচে আরও ৮৫টি নতুন হ্রদের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ফলে বর্তমানে পরিচিত সক্রিয় হ্রদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইশো ৩১টি। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইএসএর ক্রায়োস্যাট স্যাটেলাইটের এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করে আবিষ্কারটি সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ। মেরু অঞ্চলের সাগরের বরফের পুরুত্ব পরিমাপ এবং অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রীনল্যান্ডের বিশাল বরফের চাদরের উচ্চতার পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করেছে ২০১০ সালে উৎক্ষেপিত ক্রায়োস্যাট স্যাটেলাইটটি।

এর রেডার যন্ত্রটি এতটাই সংবেদনশীল যে বরফের পৃষ্ঠের সামান্য ওঠানামাও শনাক্ত করতে পারে এটি। যা থেকে ইঙ্গিত মেলে বরফের অনেক নিচে যেসব হ্রদ রয়েছে সেগুলোর ভেতরে কখন পানি জমছে বা কখন সেখান থেকে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। সাবগ্লাসিয়াল লেক স্থির বা এক জায়গায় আটকে থাকা পানির ভা-ার নয়। এদের মধ্যে কিছু সক্রিয় হ্রদ রয়েছে। ফলে এসব হ্রদে নিয়মিতভাবে পানি খালি হয় এবং আবার ভর্তি হয়। আর এ পুরো চক্রটি শেষ হতে কয়েক মাস বা কখনো কখনো কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগে।

এসব পরিবর্তনের কারণে বরফের ওপরের অংশ কয়েক মিটার পর্যন্ত নিচে দেবে যায় বা উপরে উঠে আসে। আর ক্রায়োসেটের মতো স্যাটেলাইটগুলো এসব ওঠানামা শনাক্ত করতে পারে। এ গবেষণার আগে গোটা বিশ্বে কেবল ৩৬টি পূর্ণাঙ্গ পানি নিষ্কাশন চক্র পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল নেচার কমিউনিকেশনসে। এ নতুন গবেষণায় আরও ১২টি পূর্ণাঙ্গ পানি নিষ্কাশন চক্র রেকর্ড করেছেন গবেষকরা। ফলে মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮টি। 
এ গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব লিডসর পিএইচডি গবেষক স্যালি উইলসন বলেছেন, এসব পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা খুবই কঠিন। কারণ এসব হ্রদ শত শত মিটার বরফের নিচে লুকিয়ে থাকে। এমন অবস্থায় সাবগ্লাসিয়াল হ্রদের পানি ভরা ও খালি হওয়ার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন, বিশেষ করে এ প্রক্রিয়াটি শেষ হতে কয়েক মাস বা এমনকি বছর পর্যন্ত সময় লাগে।

তবে নতুন স্যাটেলাইট তথ্যের সাহায্যে ২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত অ্যান্টার্কটিকার এমক পরিবর্তনকে নজরে রাখতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় বরফের নিচে নতুন পানি নিষ্কাশনের পথও চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা, যার মধ্যে পাঁচটি রয়েছে সংযোগওয়ালা হ্রদের জাল।

প্যানেল হু

×