ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪ দেশ স্পষ্টভাবে ইসরাইলের বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে। গাজায় সৃষ্টি হওয়া দুর্ভিক্ষের জন্য সরাসরি তেল আবিবকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীনসহ অন্যান্য দেশ। একই সময়ে, উপত্যকায় অনাহারের পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র বাঘবিতণ্ডায় জড়িয়েছে ইসরাইল ও আলজেরিয়ার প্রতিনিধি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরের মতো নির্লজ্জভাবে ইসরাইলের পক্ষ নিয়েছে।
গাজার দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তুলে ধরতে, আলজেরিয়ার প্রতিনিধি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে অভুক্ত অপুষ্টিতে ভোগা ফিলিস্তিনি শিশুদের ছবি প্রদর্শন করেন এবং ১৩ বছরের ছেলের কাছে লেখা ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত সাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগারের আবেগঘন চিঠি পড়ে শোনান। তবে ইসরাইলি প্রতিনিধি এই তথ্যপাত্যকে মিথ্যা দাবি করে বলেন, শিশুদের মৃত্যু অপুষ্টির কারণে নয়, বরং অন্য কোনও রোগে হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে বাঘবিতণ্ডায় জড়ায় দুই দেশের প্রতিনিধি।
ইসরাইলি পক্ষ দাবি করে, "আমি আপনাকে পরামর্শ দেব, কিছু দেখানোর আগে ঘটনাগুলো যাচাই করুন। যে ছবিগুলো দেখিয়েছেন, সেই নামগুলো যাচাই করেছি আমরা। আপনার সঙ্গে আলাদা দেখা করে তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাব। তবে এসব শিশুর সঙ্গে অপুষ্টির কোনও সম্পর্ক নেই।" জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদনেও ঘটনাগুলো নথিভুক্ত আছে। ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেস ক্লাসিফিকেশনের রিপোর্টে এসব ঘটনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে ১৪ দেশই ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করে যে গাজায় দুর্ভিক্ষ মানবসৃষ্ট এবং তা তেল আবিবের তৈরি। আধুনিক ইতিহাসে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবারের মতো মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ রেকর্ড করা হয়েছে। গাজার সীমান্তে খাবারের ট্রাক অপেক্ষা করছে, অথচ শিশুরা অপুষ্টিতে মারা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র বরাবরের মতোই বন্ধু ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং গাজায় দুর্ভিক্ষ ইস্যুতে আইপিসির প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্ন তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেছেন, "আমরা স্বীকার করি গাজায় ক্ষুধা একটি বাস্তব সমস্যা। উল্লেখযোগ্য মানবিক চাহিদা পূরণ করা আবশ্যক এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। তবে দুর্ভাগ্যবশত আইপিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি সঠিক নয়।"
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করায় নেতৃস্থানীয় নিহ প্রশাসনকে সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন এবং গাজায় অবিলম্বে নিঃশর্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি তোলেন।
শেখ ফরিদ








