//

ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৯ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

অ্যান্টার্কটিকায় বাড়ছে দূষণ, দায় পর্যটন ও গবেষণা বিস্তার

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ২১ আগস্ট ২০২৫

অ্যান্টার্কটিকায় বাড়ছে দূষণ, দায় পর্যটন ও গবেষণা বিস্তার

পৃথিবীর শেষ অক্ষত বন্যপ্রাণভূমির অন্যতম হিসেবে পরিচিত অ্যান্টার্কটিকা এখন ক্রমশ মানব কর্মকাণ্ডের চাপে পড়ছে। নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, পর্যটনের ব্যাপক বিস্তার এবং গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধির ফলে মহাদেশটিতে দূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক জার্নাল নেচার সাসটেইনেবিলিটি-তে প্রকাশিত এই গবেষণা বলছে, অ্যান্টার্কটিকার যে এলাকাগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বেশি, সেখানে ভারী ধাতব কণাসহ সূক্ষ্ম দূষণকণার ঘনত্ব এখন থেকে ৪০ বছর আগের তুলনায় ১০ গুণ বেশি।

আন্তর্জাতিক অ্যান্টার্কটিকা ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, গত দুই দশকে প্রতি বছর পর্যটক আগমনের সংখ্যা ছয়গুণ বেড়েছে। ২০ হাজার থেকে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজারে।

চিলি ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকরা চার বছর ধরে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে মহাদেশটির দূষণের মাত্রা পরিমাপ করেছেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অ্যান্টার্কটিকার তুষারে ভিন্ন ভিন্ন দূষণ উৎসের ছাপ স্পষ্ট। এর মধ্যে ভূ-পৃষ্ঠ, সাগর, জীববৈজ্ঞানিক এবং মানবসৃষ্ট দূষণ মিলেমিশে কাজ করছে। বিশেষত উত্তর অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের তুষারে ভারী ধাতুর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। এই অঞ্চলেই প্রধান গবেষণা কেন্দ্রগুলো অবস্থিত এবং এখানেই সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের চাপ সবচেয়ে তীব্র।

গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অ্যান্টার্কটিকার মতো ভঙ্গুর পরিবেশে জ্বালানি-নির্ভর কার্যক্রমের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। তাই এ অঞ্চলে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণ এখন জরুরি।

অ্যান্টার্কটিকাকে রক্ষার এই আহ্বান শুধুই বৈজ্ঞানিক সতর্কবার্তা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য পৃথিবীর শেষ অক্ষত বন্যপ্রাণভূমি সংরক্ষণের তাগিদও বটে।

আফরোজা

×