ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১

জলবায়ু ন্যায্যতা আদায় ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ২৭ নভেম্বর ২০২৩

জলবায়ু ন্যায্যতা আদায় ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান

সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত। 

জলবায়ু ন্যায্যতা আদায় ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ আন্দোলন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ। তারা বলেছেন, জলবায়ু ন্যায্যতার অভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জলবায়ু ন্যায্যতা ও ক্ষতিপূরণের দাবি নিশ্চিত করতে হবে। এটি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, এটি একটি ন্যায্য অধিকার।

সোমবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দুবাই জলবায়ু সম্মেলন (কপ২৮): জনগণের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তারা। 

বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এবং বারসিক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ক্যাপস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন লেখক-গবেষক পাভেল পার্থ। 
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কাওসার রহমান, বারসিকের সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সাগর, ক্যাপসের লিগ্যাল ডিরেক্টর অ্যাডভোকেট রাশেদুজ্জামান মজুমদার, পরিবেশ উদ্যোগের গবেষণা সমন্বয়ক ইঞ্জি. মো. নাছির আহম্মেদ পাটোয়ারী প্রমূখ।

মূল বক্তব্যে লেখক-গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, ‘বিশ্বের ধনী ও উন্নত দেশের প্রায় এক ভাগ মানুষ যে পরিমান কার্বন নির্গমণ করে সেই পরিমান কার্বন নির্গমণ করে বিশ্বের প্রায় ৬৬ ভাগ মানুষ। সেদিক থেকে বাংলাদেশের কার্বন নির্গমণের পরিমাণ খুবই নগণ্য। তারপরও প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন দুর্যোগ ও বিপদাপন্নতার শিকার হচ্ছে। তাই এবারের জলবায়ু সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের জন্য লস এন্ড ড্যামেজ তহবিলের ইকোনমিক এবং নন ইকোনমিক উভয় নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, ইকোনমিক লসের সঙ্গে ননইকোনমিক লস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 
এছাড়াও আমাদের নিজেদেরকেও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার সকল পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে তরুণ-যুবদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে নগরের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য আবাসন, শিক্ষা, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ ও নিরাপদ জ্বালানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে যুবকদের স্বীকৃতি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাভিত্তিক সমাধানকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। তিনি বলেন, জলবায়ু সম্মেলন এমন একটি প্লাটফর্ম, যেখানে সমস্ত দেশই জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় একত্রিত হয়ে কাজ করতে আসে। নীতিনির্ধারকদের কাছে অনুরোধ, দেশের সকল অঞ্চলের মানুষের দাবিগুলো জলবায়ু সম্মেলনে তুলে ধরুন। ন্যায্যতা আদায়ের সারা বছরই কর্মসূচি অব্যাহত রাখুন।

সাংবাদিক কাওসার রহমান বলেন, ‘এবছর বার্ষিক তাপমাত্রা প্রায় সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ভবিষ্যতে গরম আরো তীব্র হওয়ার আশংকা রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে আমরা চাই এবছরের জলবায়ু সম্মেলনেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমিয়ে আনার বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।’

 

এম হাসান

×