সোমবার ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

ফিদেল ক্যাস্ট্রোর পুরনো শত্রুর চিরবিদায়

  • কিউবার নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করাই ছিল যার স্বপ্ন

কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোর আজন্ম শত্রু লুই পোসাডা কারিলেস ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন। ক্যাস্ট্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করাই ছিল সিআইএর এজেন্ট কারিলেস সারা জীবনের স্বপ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা প্রবাসী কারিলেসের মেয়ে জ্যানেট আর্গুইলো জানিয়েছেন তার বাবা ফুসফুসে পানি জমে গিয়েছিল, এছাড়া ২০১৫ সালে তার স্ট্রোক হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি অসুস্থ ছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমস।

কারিলেস ক্যাস্ট্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করার মিশনে জীবনে ৬০টি বছর পার করেন। তাকে যে কোন উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করা ছিল তার লক্ষ্য। এ উদ্দেশে তিনি বোমা হামলার মতো ঘটনাও তিনি ঘটিয়েছেন। যাতে বহু নিরপরাধ লোক মারা গেছে। কিন্তু ক্যাস্ট্রোকে নাগালের মধ্যে পাননি। ২০১৬ সালে ক্যাস্ট্রোও ৯০ বছর বয়সে মারা যান। তাকে উৎখাতের লক্ষ্যে বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে তিনি দিনের পর দিন বনে জঙ্গলে কাটান। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজ বাড়িতে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। কারও কাছে তিনি ছিলেন যোদ্ধা, কারও আছে সন্ত্রাসী। ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভের কিউবা ডকুমেন্টেশন প্রজেক্টের পরিচালক পিটার কর্নব্লুহ বলেন, ‘তিনি একজন প্রথম শ্রেণির আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী’। তিনি দশকের পর দশক ধরে কারিলেসের কর্মকা-ের ওপর তথ্য সংগ্রহ করেছেন। লুই পোসাডা কারিলেসের জন্ম কিউবার মধ্যাঞ্চলীয় শহর সিয়েনফুয়েগস শহরে ১৯২৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। হাভানা ইউনিভর্সিটিতে তিনি লেখাপড়া করেছেন। ক্যাস্ট্রোও তার কয়েক বছর পর ওই ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেন। কারিলেসের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল কিউবায় একটি রাবার কোম্পানিতে। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে যান। ১৯৫৯ সালে ক্যাস্ট্রো ক্ষমতায় আসার পর কারিলেস দেশে ফিরে ক্যাস্ট্রো বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন ও জেলে যান। তিনি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হয়ে কাজ শুরু করেন। ১৯৬১ সালে সিআইর পৃষ্ঠপোষকতায় ক্যাস্ট্রোবিরোধী বে অব পিগস অভিযানে তিনি অংঘ নেন। তবে সেই অভিযান সফল হয়নি। এরপর কারিলেস ভেনিজুয়েলার গোয়েন্দা সংস্থার হয়েও কিছুদিন করেন। ক্যাস্ট্রোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে দুঃসাহসিক কাজটি তিনি করেন ১৯৭৬ সালে। বার্বাডোস উপকূলে কিউবার জাতীয় বিমানসংস্থার একটি প্লেন বোমা মেরে উড়িয়ে দেন। এতে কিউবার জাতীয় দলের কিশোর খেলোয়াড়সহ ৭৬ জন নিহত হলেও বেঁচে যান ক্যাস্ট্রো। ঘটনার সময় কারিলেস ভেনিজুয়েলায় ছিলেন। তাকে সামরিক বিচারের মুখোমুখি হতে হলেও তিনি খালাস পান। ১৯৯৭ সালের হাভানায় হোটেলে বোমা হামলার পেছনেও তার হাত ছিল বলে ধারণা করা হয়।

শীর্ষ সংবাদ: