রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সৌরভকে ছুঁয়ে ফেললেন বিরাট কোহলি

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
সৌরভকে ছুঁয়ে ফেললেন  বিরাট কোহলি

মোঃ মামুন রশীদ ॥ ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসার নাম বর্তমানে বিরাট কোহলি। গত বিশ্বকাপে দলে ছিলেন বীরেন্দর শেবাগ, শচীন টেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড় ও সৌরভ গাঙ্গুলীরা। এবার তাদের কেউ নেই। সে কারণে কোহলির ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে ছিল ভারতীয় দল। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই তিনি সে আস্থার যথার্থ মূল্য দিয়েছেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই হাঁকিয়েছেন দারুণ এক শতক। ক্যারিয়ারের ২২তম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি করেন ১০৭ রান। শুধু তাই নয় বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই প্রথম কোন ভারতীয় ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখালেন। এর আগে শচীন টেন্ডুলকরের ৯৮ রানই ছিল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এর ফলে সর্বাধিক সেঞ্চুরির দিক থেকে কোহলি ছুঁয়ে ফেলেছেন সৌরভ গাঙ্গুলীকে (২২)।

চার বছর আগে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে নেমেই শতক হাঁকিয়েছিলেন কোহলি। বিশ্বকাপ অভিষেকে শতক হাঁকানোর দিক থেকে তিনি ১৩তম ব্যাটসম্যান হিসেবে নজর কেড়েছিলেন। এর তিন বছর আগেই অর্থাৎ ২০০৮ সালে ওয়ানডে অভিষেক ঘটেছিল কোহলির। এরপর অবশ্য তেমন কিছু করতে পারেননি তিনি। ২০১১ বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচ খেলে করতে পেরেছিলেন মাত্র ২৮২ রান। পুরনো সময়গুলোর মতোই এবারও ভারতীয় দলের মূল শক্তি ব্যাটিং। আর গতবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতামত ব্যাটিং দিয়েই কিছু একটা করতে হবে তাদের। এ্যাডিলেড ওভালে সেই মিশনের প্রথম ম্যাচেই চরম প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্নায়ু চাপ কাটিয়ে ভাল করার চ্যালেঞ্জ ছিল দলের জন্য। শুরুতেই ওপেনার রোহিত শর্মা ফিরে যাওয়ার কারণে একটা ধাক্কা খায় ভারতীয় ব্যাটিং। তবে এরপর কোহলিকে থামাতে পারেননি পাক বোলাররা। কোহলি গত চার বছরে অনেক অভিজ্ঞ ও পরিণত ক্রিকেটার হয়ে উঠেছেন। দলের অন্যতম ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন। সে আস্থাটার প্রমাণ ব্যাট করতে নামার পর অবশ্য তেমন স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে দেখাতে পারেননি। তবে এবার ভারতীয় দলের গত আড়াই মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরে অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান কোহলি। এবার তাই বিশ্বকাপে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে কোহলির দিকেই সবার মনোযোগ। ৭ বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ১৫০ ম্যাচ খেলেই ২১ শতক হাঁকানোর কারণে অনেকেই শচীনের অন্যতম উত্তরসূরি হিসেবে মনে করেন এ তরুণকে। ব্যাটিংয়ে নামার পর পাক পেসারদের বিরুদ্ধে ব্যাট চালাতে অবশ্য কিছুটা অস্বস্তির মধ্যেই ছিলেন কোহলি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্ধশতক পেয়ে যান ৬০ বলে ৫ চার হাঁকিয়ে। শতক হাঁকানোর পর একইভাবেই ব্যাট চালিয়ে যান তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে ১২৯ রানের জুটি গড়েন তিনি ওপেনার শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে। তৃতীয় উইকেটে সুরেশ রায়নার সঙ্গে যোগ করেন আরও ১১০ রান। তবে ব্যক্তিগত ৭৬ রানের সময় একটি সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি। হারিস সোহেলের বলে তার তুলে দেয়া ক্যাচটা ধরতে পারেননি উমর আকমল। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের ২২তম শতক হাঁকান তিনি। এর ফলে ছুঁয়ে ফেলেছেন গাঙ্গুলীকে। ওয়ানডেতে সর্বাধিক সেঞ্চুরি করার দিক থেকে এখন শুধু তার ওপরে শচীন (৪৯)। এছাড়াও এগিয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং (৩০) ও শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়াসুরিয়া (২৮)। এটি ছিল বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় কোন ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। এর আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে ৯টি অর্ধশতক ছিল ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। যার মধ্যে শচীনের করা ৯৮ রানই ছিল সর্বোচ্চ। তিনি ২০০৩ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরিয়নে ১ মার্চ ওই ইনিংস খেলেছিলেন। ১২৬ বলে ৮ চারে ১০৭ রান করার পর তাকে ফিরিয়ে দেন সোহেল খান।

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: