ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

আদালতের রায় পেয়েও বসতভিটায় ঘর তুলতে না পারার অভিযোগ

সানোয়ার হোসেন, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:২১, ১২ মার্চ ২০২৬

আদালতের রায় পেয়েও বসতভিটায় ঘর তুলতে না পারার অভিযোগ

ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা-এর চামরদানী ইউনিয়ন এলাকায় আদালতের রায় থাকার পরও নিজ ক্রয়কৃত জমিতে বসতঘর নির্মাণ করতে পারছেন না নূর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চামরদানী গ্রামের বাসিন্দা নূর ইসলামের পিতা এসএ খতিয়ানের মূল মালিকের কাছ থেকে ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে আরএস জরিপে ওই জমি ভুলবশত বিবাদীদের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। পরে বিষয়টি সংশোধনের জন্য নূর ইসলাম আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি ওই জমির রেকর্ড সংশোধন করে নেন।

এছাড়া নূর ইসলাম অভিযোগ করেন, একই এলাকার বিবাদী বেগম, তার স্বামী লিলু মিয়া এবং তাদের সন্তান বিল্লাল ও শান্তনা খাতুন -এর কাছ থেকে আরও ৩ শতাংশ জমি ক্রয়ের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বায়নাপত্র সম্পাদন করেন। এ সময় তিনি ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু পরে জানা যায়, বিবাদীদের নিজস্ব মালিকানাধীন জমি মাত্র ২ শতাংশ। এ অবস্থায় নূর ইসলাম বাকি টাকা পরিশোধ করে দলিল সম্পন্ন করতে চাইলে বিবাদীরা ১০ হাজার টাকা গ্রহণ না করে দলিল সম্পাদনেও গড়িমসি করতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ল্যান্ড সার্ভে মোকদ্দমা নং-১৫১৬/২০২০ মামলায় নূর ইসলাম ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে বিবাদীরা ল্যান্ড সার্ভে আপিল মোকদ্দমা নং-৩৫/২০২৪ দায়ের করলে আদালত পূর্বের রায় বহাল রাখেন। এছাড়া বিবাদীরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিবিধ মোকদ্দমা নং-৫৬/২০২৪ দায়ের করলে তদন্ত শেষে ১৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে আদালত বিবাদীদের ওই জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৯ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০টার দিকে নূর ইসলাম তার ক্রয়কৃত জমিতে বসতঘর নির্মাণ করতে গেলে বিবাদীরা বাধা দেন এবং ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেন। ফলে আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের বসতভিটায় ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না এবং বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সব মিলিয়ে নূর ইসলাম বর্তমানে মোট ৬ শতাংশ জমির বৈধ মালিক হলেও বিবাদীদের বাধার কারণে তিনি জমির দখল ও ব্যবহার করতে পারছেন না। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম.কে

×