ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

গাংনীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্কে অফিস করছেন সরকারি কর্মকর্তারা

তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, মেহেরপুর 

প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ১২ মার্চ ২০২৬

গাংনীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্কে অফিস করছেন সরকারি কর্মকর্তারা

ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।

মেহেরপুরের গাংনীতে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অফিস করছেন কৃষি ও পরিসংখ্যান অফিসের কর্মকর্তারা। মাঝে মাঝে খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। এ নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন তারা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানিয়েছেন বলে জানান তারা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় গাংনী উপজেলার পরিসংখ্যান, কৃষি ও মৎস্য অফিসের ছাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার দৃশ্য। এ ঘটনায় অফিসের কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও নষ্ট হয়েছে অফিসের কম্পিউটার। কম্পিউটারের উপর ছাদের বড় পলেস্তারা পড়ায় কম্পিউটার একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে।  

পরিসংখ্যান ও কৃষি অফিস সূত্র জানায়, আমরা  প্রতিদিনই খুব আতঙ্কের মধ্যে অফিসে কাজ করি। মাঝেই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে  মেঝেতে। এতে  অফিসের দুটি কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেছে। একটি কৃষি অফিসের কম্পিউটার ও একটি পরিসংখ্যান অফিসের কম্পিউটার।

স্থানীয়রা জানান, পরিসংখ্যান ও কৃষি অফিসে  আমরা বিভিন্ন কাজের জন্য যায়। দেখে খুব খারাপ লাগে। ছাদের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় পলেস্তারা  খসে পড়ে গর্ত হয়ে আছে। প্রতিদিনই অফিসে যারা কর্মরত আছেন তারা আতঙ্কের মধ্য দিয়েই অফিস করেন। যেমন আতঙ্কও থাকে তেমন জীবনের ঝুঁকিও থাকে। এসব বড় বড় পলেস্তারা যদি মাথায় পড়ে তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অতিদ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার।

গাংনী উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের জুনিয়র পরিসংখ্যান সহকারী মো: ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমি ২০২২ সালে এ অফিসে যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ভবনটিতে তেমন কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। এছাড়াও ভবনের ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা গেছে। ফলে প্রতিদিনই আতঙ্ক আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অফিস করতে হয়। দ্রুত ভবনটির সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

গাংনী উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার সকালে অফিস চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। আল্লাহর রহমতে কেউ আহত হয়নি। এতে অফিসের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

গাংনী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নবির উদ্দিন সেলিম বলেন, আমাদের পাশাপাশি তিনটা রুম, এই তিনটার রুমের অবস্থা খুব খারাপ। অফিসে কাজ করার সময় মাঝে মাঝে উপরে তাকাতে হয় কখন পলেস্তারা খসে পড়ে। অফিসে যারা কর্মরত আছেন প্রত্যেকে আতঙ্কের মধ্যে থাকে। এর আগে কম্পিউটার উপর একটা কম্পিউটার একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটার আগে বিষয়টি দ্রুত দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. বছির উদ্দিন বলেন, ঘটনার বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ভবনটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর কিছু অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মতিয়র রহমান  বলেন, আমাদের এই অফিসে কিছুদিন আগে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে একটি কম্পিউটার মনিটর নষ্ট হয়েছে। যে কেউ আহত হতে পারতো। ভবনটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর কিছু অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।

এম.কে

×