ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

অপরাজিতা

আজও অধিকারহীনা

নাজনীন বেগম

প্রকাশিত: ১৭:৪৮, ১২ মার্চ ২০২৬

আজও অধিকারহীনা

সমাজের সমসংখ্যক নারী তাদের অধিকারের মাত্রায় কেন পিছিয়ে? সেই উত্তর না মেলা ও এক রুদ্ধতার জাল। দেশ উন্নয়ন কর্মযোগে এগিয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যমান হতেও সময় ক্ষেপণই হয় না। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবেদন, প্রতিবাদ, মিছিলে নতুন করে জেগে উঠছে অধিকারহীনতার দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ। যা কোনোভাবেই এড়ানো কিংবা ঠেকানো অসম্ভবের পর্যায়। বিভিন্ন সময় আওয়াজ উঠছে সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে স্বৈরাচারী শাসনে পতন হয়েছে। তাও এক বছর অতিক্রম করার দুঃসহ এক ক্রান্তিকাল। যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেখানে পুরানো অপসংস্কার যেন এখনো জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে। কাঠামোর গভীরতম গহিন শিকড়ে। সেটারই কোনো মূল উৎপাটন কেন সম্ভব হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখার সময়ও দ্রুতগতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। কাজের কাজ কিংবা প্রচলিত সমস্যা বিপদশঙ্কুল রাস্তা আজও অনধিগম্য এক যাত্রাপথ।
নতুন অন্তর্বর্তী সরকারও যথাযোগ্য কোনো সমাধান দিতে বারবার পিছু হটছে। তাহলে তাদের জন্য অবারিত, নির্বিঘ্ন হবে? 
সম্মিলিত হয়ে বিভিন্ন নারী সংগঠন পুনরায় তাদের ন্যায্যতা, আইনি অধিকার পাবার বিষয়টি সামনে আনতে এক প্রকার বাধ্যই হচ্ছেন। এমন আশঙ্কা ও প্রকাশ করা হচ্ছে অধিকারের বিষয়টিই নাকি এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে? 
সেই পুরানো কথা নারীদের অধিকার আদায়ের ব্যাপার নয় মূল বার্তাটিরই নড়বড়ে অবস্থা। আবারও সমস্বরে দাবি উঠছে আইন আর সংবিধান যদি নারীর ন্যায্য অধিকার দিতে পিছু হটে তাহলে শেষ অবধি স্বয়ং রাষ্ট্রকেই তেমন দায়বদ্ধতা নিতে হবে বলে প্রতিবাদী এমন আলোচনায় দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণাও আসে।
সম্মিলিত এমন কর্মশালার আয়োজক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ।’ ইউএনডিপি জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে। বিশেষ এমন আলোচনায় উঠে আসে বিষয় বিশ্বের বিভিন্নস্থানে দৃশ্যমান হলেও অধিকার আদায়ের মহৎ কর্মযোগটি কেন যে সংশ্লিষ্টদের জীবন ও কর্মে অবারিত হচ্ছেই না। তাই রাষ্ট্রকেই উদ্যোগ নিয়ে অমীমাংসিত দীর্ঘকালীন সমস্যাকে অতি অবশ্যই শুধু নজরে আনা নয় সমূলে উপড়ে ফেলা ও সময়ের অপরিহার্যতা।
নারীরা প্রতিবাদী হয়ে তাদের কাক্সিক্ষত সমঅধিকার যা কিনা আইন, রাষ্ট্র, সমাজ দিতে কার্পণ্য না করলে ভেতরের অপশক্তি যারা বিভেদ বৈষম্য জিইয়ে রাখতে এগিয়েই থাকে তাদের প্রতি কঠোর বাণী ও আছে এই সম্মেলন থেকে। উত্তরাধিকার আইন নিয়েও আপত্তি তোলা হয়। সেখানে সমতাকে ন্যায্যতা দিয়ে অধিকার, স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। বারবার হয়ে আসা সেই একই কঠিন বিধিবদ্ধ অব্যবস্থা যা অধিকারের মাঝখানে প্রাচীরসম ব্যবধান ফারাককে নিত্যনতুন অবস্থায় তৈরি করতেও অদম্য গতিতে ছুটে চলেছে।
নারীর মৌলিক অধিকারের প্রতি আর কোনো আপোস কিংবা সমঝোতা একেবারেই নয়। দৃশ্যমান অবকাঠামো শিল্প প্রযুক্তির অবাধ প্রসার ঘটলেও মান্ধাতা আমলের ঐতিহ্যিক মানসিকতা যা সময়ের গতি প্রবাহে নিত্যই পরিবর্তনের আহ্বান দিয়ে যাচ্ছে সেভাবেই নারী সমাজকে কর্ম এবং মানসিকতায় দ্রুততার সঙ্গে গ্রহণ করার দাবিও আসে সম্মিলিত নারী সম্মেলন থেকে। নাগরিকে পাঁচ মৌলিক অধিকারই নারী জাতির প্রাপ্যতা। কোনো একটা লঙ্ঘিত হলেই মানুষের মর্যাদায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায়। তাই অধিকার স্বাধীনতার সব ক্ষেত্রে নারী অংশ নেওয়া সময়ের দাবি। 

প্যানেল/মো.

×