ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

শহীদ বুদ্ধিজীবী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের বিদেশ যাওয়া হয়নি  

নিজস্ব সংবাদদাতা, হবিগঞ্জ

প্রকাশিত: ১১:৩১, ১৪ ডিসেম্বর ২০২২; আপডেট: ১১:৩২, ১৪ ডিসেম্বর ২০২২

শহীদ বুদ্ধিজীবী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের বিদেশ যাওয়া হয়নি  

নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি: জনকণ্ঠ

শহীদ বুদ্ধিজীবী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকবাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক। শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য হকিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার জন্তরী গ্রামে ১৯৪৫ সালের ৩১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা দিগেন্দ্র চন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন নামকরা আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। 

১৯৬৩ সালে এমসি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে মেধা তালিকায় একাদশ স্থান অধিকার করে আইএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক) পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হন অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য।

১৯৬৬ সালে অনুদ্বৈপায়ন পদার্থবিদ্যায় প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অধিকারে বিএসসি সম্মান ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফলিত পদার্থ বিদ্যায় প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান পেয়ে এমএসসি পাশ করেন। ১৯৬৮ সালের ১৪ মার্চ ফলিত পদার্থ বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন অনুদ্বৈপায়ন। আর একই বছরের ১ জুলাই জগন্নাথ হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।

কলম্বো প্লানের বৃত্তি নিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য ১৯৭১ এর ২৬ মার্চ রাতে বিমানে উঠার সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত ছিল এই শহীদ বুদ্ধিজীবীর। কিন্তু ভোর রাতে পাকবাহিনীর হাতে অন্যান্য মেধাবী ছাত্র- শিক্ষকের সঙ্গেই শহীদ হন অনুদ্বৈপায়নের ভট্টাচার্য।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য শহীদ হওয়ার দুইদিন আগে নিজ জন্মভূমি নবীগঞ্জের জন্তরী গ্রামে এসেছিলেন।

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যাওয়ার জন্য বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে বিদায়ও নেন। এ সময় অনেকেই ঢাকায় না যেতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন এবং উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণের দিক বিবেচনা করে কারো বাঁধা তাকে ধরে রাখতে পারেনি। তিনি ২৫ মার্চ ঢাকায় ফিরেন। ওই দিন ভোর রাত (২৬ মার্চ) পাকবাহিনীর বুলেটে শহীদ হন তিনি।

২০১৬ সালে শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের জন্মভূমি নবীগঞ্জে নিজ বসতভিটায় স্থাপিত হয় ‘শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের স্মৃতিস্তম্ভ’। সাবেক এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর সরকারী বরাদ্দ থেকে নবীগঞ্জের জন্তরী গ্রামের বাসিন্দা শহীদ বুদ্ধিজীবী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের নামের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এমপি কেয়া চৌধুরী প্রস্তাবে শহীদের একমাত্র বোন প্রীতিলতা ভট্টাচার্যের হাতে শহীদের ছোটবেলায় খেলার প্রাঙ্গণ পুকুর পাড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ প্রদীপ জ্বালিয়ে উদ্বোধন করা হয়।

এসআর

×