১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ক্যান্সার ঘটিত কোষ রূপান্তর নির্ণয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিং


পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং বা পরম্পরাগত বিন্যাসকে কাজে লাগিয়ে রোগীর বংশগত ক্যান্সারের ঝুঁকি চিহ্নিত করা যায়। এতে ক্যান্সার প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিচর্যার উন্নতি ঘটানোর সুযোগ পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথওয়েস্টার্ন মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষকরা এক গবেষণার মধ্য দিয়ে এটা দেখিয়েছেন।

এই প্রথম একটি গবেষণায় পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিংকে কাজে লাগিয়ে ২৫৮ জন ক্যান্সার রোগীর জিনোমের মূল্যায়ন করা হয়েছে যাতে ক্যান্সারপূর্ব জিনগত রূপান্তর নির্ণয়ের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা যায়, গবেষণার ফল ইবায়ো মেডিসিন জার্নালের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।

ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিক্যাল সেন্টারের ক্যান্সার জিনোটিক্স প্রোগ্রামের ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. থিওডোবা রস বলেন, পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং হলো এক নতুন জিনগত হাতিয়ার যার সাহায্যে আগের যে কোন সময়ের চাইতে কোন ব্যক্তির ডিএনএ সিকোয়েন্স আরও ভালভাবে নির্ণয় করা যায়। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসাগতভাবে চিহ্নিত করা প্রায় ৯০ ভাগ জিনগত রূপান্তর আস্থার সঙ্গে নির্ণয় করা হয়েছে এবং এর বাইরেও অতিরিক্ত ক্যান্সার জিনের রূপান্তর আবিষ্কার করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে রোগীর চিকিৎসা পরিচর্যার উন্নতিই শুধু ঘটবে না, উপরন্তু নতুন ক্যান্সার জিনও আবিষ্কৃত হবে।

ইউটি সাউথওয়েস্টার্নের ক্যান্সার জিনেটিক্স ক্লিনিকের চিকিৎসক ও জিনেটিক কাউন্সিলররা কিডনি, ত্বক, ফুসফুস, স্তন. ডিম্বাশয়, কোলন, প্রস্টেট ও এন্ডোক্রাইন ক্যান্সারসহ নানা ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি মূল্যায়নে রোগীদের সাহায্য করে থাকেন। রোগীর ক্যান্সার হওয়ার জিনগত প্রবণতার সন্ধান পাওয়া গেলে ডা. রস ও তাঁর দল আগাম ক্যান্সার নির্ণয় কিংবা শরীরে ক্যান্সার দানা বাঁধা প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় সম্পর্কে রোগীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

যাবতীয় ক্যান্সারের মধ্যে ৫ থেকে ১০ ভাগ ক্যান্সার জ্ঞাত বংশগত জিনে রূপান্তরের মাধ্যমে ঘটে থাকে। এই রূপান্তরগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে বাহিত হয়ে থাকে। বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২ জিনের রূপান্তর বংশগত স্তন ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় কারণ। বিআরসিএ জিনের রূপান্তর স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকির সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে পরিচিত। তবে এটা ওভারি, প্রোস্টেট, প্যানক্রিয়াস ও অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে থাকে। তাছাড়া ভিন্ন ধরনের অনেক জিন আছে যেগুলো স্তন ক্যান্সারের বর্ধিত ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। এগুলোর মধ্যে এটিএম, সিডিএইচ১, সিএইচইকে২, পিএএলবি২, পিটিইএন এবং টিপি৫৩ জিনও রয়েছে। তাছাড়া ক্যান্সারের প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে এমন অন্যান্য জিনও গবেষকরা নিরন্তর আবিষ্কার করে চলেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে পূর্ণাঙ্গ জিনোম পরম্পরা বিন্যাসের মাধ্যমে বিআরসিএ ‘রহস্য’ রোগী নয় এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নতুন ক্যান্সার জিন রূপান্তর নির্ণয় করা সম্ভব। তাতে ভবিষ্যতের ক্যান্সার ক্লিনিকগুলোর কাছে পূর্ণাঙ্গ জিনোম পরম্পরার গুরুত্ব বেড়ে যাবে। ‘রহস্য রোগী’ কথাটার ব্যাখ্যা দিয়ে ড. রস বলেন, এরা হচ্ছে সেইসব রোগী যাদের পারিবারিক ইতিহাসে আরও অনেকেরই ক্যান্সার হওয়ার নজির আছে অথচ যাদের প্রচলিত জিনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জিনের রোগ নির্ণয়গত পরীক্ষাটি আর করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, তাদের এই গবেষণায় জিনোমের পরম্পরা গত বিন্যাসের মাধ্যমে ‘রহস্য’ রোগীদের মধ্যে কাদের কাদের ক্ষেত্রে ক্যান্সারের জিন রূপান্তরের সম্ভাবনা আছে তা নির্ণয় করতে পারার সুযোগ ঘটেছে।

সূত্র : লাইফ সায়েন্স