ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এখন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন ফলাফলের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৩৫টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ প্রেক্ষাপটে দলীয় পর্যায়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নারী নেত্রীদের নাম নিয়ে চলছে নীরব আলোচনা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, যেসব নেত্রী দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন, সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন; তাদেরকেই সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীদের নাম উঠে আসছে আলোচনায়।
এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে মহিলা দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি মূলত দৃঢ় অবস্থান ও স্পষ্টভাষী বক্তব্যের জন্য। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে তিনি সরকারের নীতি ও বিভিন্ন সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে বিরোধী পক্ষের অবস্থান তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে তার উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ফাতেমা তুজ জোহরা মিতুর পিতা অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মৃধা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পারিবারিকভাবেও তিনি রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেই বেড়ে উঠেছেন। তার স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও বিভিন্ন সময় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু বলেন, “আমি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে উঠে আসা একজন কর্মী। কখনো অন্যায় বা অসঙ্গতির সঙ্গে আপোষ করিনি। দল যদি আমাকে জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ দেয়, তাহলে সেখানেও জনগণের পক্ষে এবং দলের আদর্শের পক্ষে সোচ্চার থাকব।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বিষয়ে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নেব। তবে আমি আশাবাদী, দলের নেতৃত্ব ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা, গণমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিতির কারণে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ফাতেমা তুজ জোহরা মিতুর নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।
রাজু








