তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠা সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংযোজন, আইনের শাসন,
জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি
কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিতে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগান ধারণ করে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংযোজন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠা, একজন উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃজন, এক ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ন্যায়পাল নিযোগ, ১০০ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, উভয় কক্ষের দুইজন ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন সরকারি দলের বাইরে থেকে মনোনীত করা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ ও তাদের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।
ইশতেহারে যেসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে- প্রান্তিক ও নি¤œ আয়ের পরিবারের সুরক্ষায় নারীদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ, আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধ ভিত্তিক শিক্ষা নীতি প্রণয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া পেশাকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলায় ক্রীয়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে জনগণের অংশগ্রহণে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনর্খনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, সব ধর্মের উপাসনালয়ে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু, ডিজিটাল অর্থনীতি ও বিশ্ব সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু।
এসব বিষয়ে প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা।
ইশতেহার ঘোষণাকালে তারেক রহমান বলেন, এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হলে দুর্নীতি বন্ধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তা করা হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সহেেযাগিতা করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন, ভালো নয়,অধিকার বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা এই নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। যে কোনো মূল্যে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে। দেশে আবার খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষ্যমের অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী বিএনপির ইশতেহার ঘোষণাকালে তারেক রহমান ক্ষমতায় গেলে দেশ পরিচালনায় তাদের পরিকল্পনার কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন। যাতে মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীদের রাখা এবং রাজনৈতিক দলকে সরকারের তরফে বার্ষিক বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণার আগে ও পরে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনায় দলটির অঙ্গীকার তুলে ধরে একটি ভিডিও উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এতে নির্বাচনে জয়ী হলে দলটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে তুলে ধরা হয়।
তারেক রহমান বলেন, বিগত দিনে দেশে ভোট ও জবাবদিহি ছিল না। এবার বাংলাদেশ পুনর্গঠন করার পালা। রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা তুলে ধরে তারেক রহমান তার বিশেষ পরিকল্পনা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমাদের পরিকল্পনায় ৪ কোটি যুবক ও কয়েক লাখ নারীর জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনই আমাদের লক্ষ্য।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক রাজনীতির আদর্শকে দেশে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা হবে। তিনি বলেন, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বিএনপি সেই চর্চা অব্যাহত রাখবে।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে আমরা বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করব। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের পরিকল্পনা আছে। তাই আমরা সব জায়গায় মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেব। সে যে রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী হোক আমরা নিরপেক্ষ নিয়োগ দেব। বিগত দিনে বহু মানুষ গুম-খুন হয়েছে। আমরাও বিএনপির নেতাকর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কিন্তু আমরা প্রতিশোধ চাই না। কারণ প্রতিশোধ ভালো কিছু বয়ে আনে না।
তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন অপবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করেছে বিএনপি। আগামীতে আমরা দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে চাই। সুশাসন নিশ্চিত করতে চাই। এ জন্য ন্যায়পাল নিয়োগ করব। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বিগত দিনে আমি ও আমার মা বিচারহীনতার শিকার হয়েছি। আমরা যেহেতু ভুক্তভোগী, তাই আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় বিশেষ সেল গঠন করা হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা হবে। পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত; সাংবাদিকদের কাজের সুরক্ষা প্রদান এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ওপর সব ধরনের আগ্রাসন প্রতিরোধ; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনর্নিরীক্ষণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া স্বাধীন রেগুলেটরি বডি গঠন এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইনে অভিযোগ নিষ্পত্তি; জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড গঠন এবং সরকারি বিজ্ঞাপনে রাজনৈতিক পক্ষপাত দূর করা হবে।
জুলাই সনদকে জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সে জন্য ইশতেহারে এটিকে প্রথমে রেখেছি। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্যে বেশ কিছু সংস্কারের প্রয়োজন আছে। অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কার করছে তার অধিকাংশই আমরা দুই বছর আগে জাতির সামনে উপস্থিত করেছি। ৩১ দফা ঘোষণার সময় জুলাই সনদের বিষয়টি ছিল না। গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। প্রত্যেকটি মানুষ এক বাক্যে বলবে আমরা ফ্যাসিবাদ চাই না। ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না চাইলে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর এবং উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃজন করা হবে। একই সঙ্গে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারী নিশ্চিত করা হবে।
ইশতেহারের রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার অংশে তারেক রহমান বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনর্¯’াপন করা হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অগণতান্ত্রিক সংশোধনী বাতিল, ৩১ দফার ভিত্তিতে সংস্কার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল, উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃজন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধীদলীয় ডেপুটি স্পিকার, উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারী, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কার করা হবে।
এছাড়া ৩১ দফা ও জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এবং ন্যায়পরায়ণ, বাংলাদেশ গঠন ফ্যাসিবাদ ও তাঁবেদারিত্বের পুনরাবৃত্তি দমন, বৈষম্য দূরীকরণ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনর্প্রতিষ্ঠা করা, রাষ্ট্রের প্রত্যেক স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহকে সঙ্গে নিয়ে জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করা হবে, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি।
রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার বিএনপির ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, বিএনপি বিশ্বাস করে জাতি গঠন মানে কেবল রাষ্ট্র পরিচালনা নয়, বরং বিভাজন অতিক্রম করে একটি অভিন্ন জাতীয়সত্ত্বা নির্মাণ। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটানো, আমাদের একটাই পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশি, বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ের মানুষ, সমতলের মানুষ, ধনী-দরিদ্র্য নির্বিশেষে সবাই মিলে আমরা গড়ে তুলব জাতীয় ঐক্য ও অখ- জাতীয় সত্ত্বা এবং ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠন করা হবে।
ভঙ্গুর হয়ে পড়া জাতীয় অর্থনীতি পুনর্গঠনে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন,ঋণনির্ভরতার পরিবর্তে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও নতুন সম্পদ সৃষ্টির ব্যবস্থা করা হবে। এর অংশ হিসেবে শিল্প ও সৃজনশীল অর্থনীতিতে পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ইশতেহারে ক্ষমতায় গেলে দেশ পরিচালনায় বিএনপির স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি।
বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী, অর্থনীতি পুনর্গঠনে বিএনপি যে সাতটি খাতে অগ্রাধিকার দেবে সেগুলো হলো: অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ, বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত সংস্কার, শিল্প খাত ও সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়ন, সেবা খাত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও পরিবহন খাত উন্নয়ন, আইসিটি খাত এবং নতুন শিল্পায়ন কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। আর অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ ও অলিগার্কিক কাঠামো ভাঙা হবে। প্রতিটি নাগরিকের উৎপাদনশীল সক্ষমতার ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। অর্থনীতিতে অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙে সম্পদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ, ন্যায্য মূল্যবণ্টন ও বাজারে সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, মানসম্মত আবাসন ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হবে। ঋণনির্ভরতার পরিবর্তে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও সম্পদ সৃষ্টিকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আধুনিক উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে। এজন্য রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি গতিশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে।
তারেক রহমান বলেন, নতুন শিল্পায়ন কৌশলের আওতায় অভ্যন্তরীণ শিল্পভিত্তি শক্তিশালীকরণ, শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বন্ধ শিল্প পুনরায় চালু করা, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানো হবে। এছাড়া, ‘ন্যাশনাল ট্রেড কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল’, ‘কৌশলগত টেক্সটাইল ফান্ড’, ‘ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ এবং ‘ন্যাশনাল গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি’ গঠন করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতিকে জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করে শিল্পে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। আঞ্চলিক সৃজনশীল হাব গঠন, জাতীয় ব্র্যান্ড তৈরি, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ তহবিল এবং নারী-নেতৃত্বাধীন হস্তশিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ‘এক অঞ্চল এক পণ্য’ কর্মসূচি পুনরুজ্জীবনের ঘোষণাও দেওয়া হয় ইশতেহারে।
ইশতেহারে ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কার সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ ও ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। খেলাপি ঋণ সমাধান, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতায়ন, ব্যাংকিং ডিভিশন বিলুপ্তি এবং অবসায়িত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয় ইশতেহারে।
তারেক রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, কারসাজি বন্ধ, করপোরেট বন্ড ও সুকুক চালু, প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে, ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ‘ডিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুত বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আদালত’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। বাণিজ্য সহজীকরণ, অর্থনীতি উদারীকরণ, ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) সম্পাদন, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্তি এবং লজিস্টিকস হাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, প্রশাসন সংস্কারের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশ রাজস্ব বাড়ানো হবে। ভ্যাট সমন্বয় এবং তামাক ও দূষণকারী জ্বালানিতে কর দিয়ে জিডিপির অতিরিক্ত ২ শতাংশ আয়, উচ্চবিত্তদের করজালে আনা, ডিজিটাল অডিট এবং বৈষম্যমূলক কর ছাড় বাতিল করা হবে। এছাড়া মেগা প্রকল্পে সংসদীয় নজরদারি ও ব্যয়-লাভ বিশ্লেষণ বাধ্যতামূলক করা, শ্রমঘন, ক্ষুদ্র শিল্প ও সবুজ অর্থনীতিতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো,শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিতে ব্যয় বাড়িয়ে দক্ষ জনশক্তি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের ব্যবস্থা করা হবে। বিনিয়োগ-উৎপাদন-কর্মসংস্থান-ভোগ-করচক্র ক্রিয়াকরণ, কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি করভিত্তির প্রাকৃতিক সম্প্রসারণ, উৎপাদন ও ভোগ বৃদ্ধি ভ্যাট ও পরোক্ষ করের বৃদ্ধি, কর ছাড় সংস্কারের মাধ্যমে প্রণোদনা থেকে রাজস্ব ক্ষয় বন্ধ করা হবে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না এবং কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় বা সহায়তা দেওয়া হবে না। বিএনপি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সমতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সম্পর্কই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সম্মিলিত অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এ লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
তারেক রহমান বলেন, অভিন্ন নদী ও পানি সম্পদের বিষয়ে ইশতেহারে পদ্মা, তিস্তা এবং বাংলাদেশের সব আন্তঃসীমান্ত নদী থেকে ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিএনপির মতে, ন্যায্য পানিবণ্টন নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে কোনো ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্তে হত্যা, পুশইনসহ সব অন্যায্য ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মানব পাচার ও মাদক পাচার কঠোরভাবে দমন করা হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা হবে।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি আসিয়ানের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জন এবং সার্ককে কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, পূর্ব ও দূরপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলের দেশ ও অর্থনৈতিক জোটগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বিএনপি কোনো ধরনের আপস করবে না। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না এবং কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় বা সহায়তা দেওয়া হবে না। জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসব অপশক্তি নির্মূল করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে কৃষকদের স্বস্তি দিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা করা হবে। সেই সঙ্গে তারা বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএনপির লক্ষ্য আত্মনির্ভর, জলবায়ুসহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষককেন্দ্রিক আধুনিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে নেওয়া হবে নানা উদ্যোগ।
তিনি বলেন, উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষক কার্ড চালু ও তাদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ, ক্ষুদ্র ঋণের এক বছরের কিস্তি সরকার কর্তৃক পরিশোধ, বরেন্দ্র প্রকল্প পুনর্চালুকরণ, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং কৃষিজমি সুরক্ষা। এছাড়া, কৃষিপণ্য সংগ্রহে ক্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, কৃষি বিমাব্যবস্থা চালু, খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কঠোর অবস্থান থাকবে।
বিএনপির ইশতেহারে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে খাদ্য ও ওষুধে ভেজাল রোধে তদারক জোরদার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে, দেশব্যাপী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নকল ও ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন রোধ, নিরাপদ ফসল উৎপাদনে গুরুত্বারোপ, শক্তিশালী ও কার্যকর খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন এবং আধুনিক কৃষি ও প্রযুক্তির ব্যবহার।
তারেক রহমান বলেন, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনে নারীর ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করছে বিএনপি। নারী অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো রাষ্ট্রই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না। বিনামূল্যে শিক্ষাসহ নারীর ক্ষমতায়নে বিস্তৃত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বিএনপি। নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা ও নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে বিএনপি স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে ইশতেহারে প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা হবে।
নারীদের স্বাস্থ্য ও হাইজিন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় স্থানে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন এবং কর্মস্থলে ডে-কেয়ার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করা হবে। নারী নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লিঙ্গ-ভিত্তিক ও অনলাইন সহিংসতা, বিদ্বেষ এবং বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকরের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষায়িত ‘নারী সাপোর্ট সেল’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
ইশতেহার ঘোষণার আগে স্বাগত বক্তব্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তার বক্তব্যে বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আজ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। বর্তমান জটিল ভূরাজনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান নতুন বার্তা নিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি নতুন সূর্যোদয় হবে এমন আশায় আজ সমগ্র জাতি উন্মুখ।
অনুষ্ঠানে দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাসমুজ্জামান দুদু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ,অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, গোলাম আকবর খন্দকার, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, নজমুল হক নান্নু, নাজিম উদ্দিন আলম, সুজা উদ্দিন, এস এম ফজলুল হক, বিজন কান্তি সরকার, আমিনুর রশিদ ইয়াছিন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রব ইউসুফীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনের দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানব জমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মিডিয়ার সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আনম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকগণ ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।
প্যানেল মজি








