//

ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

নতুন ভূমি আইনে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন!

প্রকাশিত: ১৩:৩৭, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

নতুন ভূমি আইনে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন!

দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের রূপান্তরের পথে হাঁটছে সরকার। জমির মালিকানা, খাজনা আদায় এবং ভূমি সংরক্ষণ—সবকিছু এক ছাতার নিচে আনতে প্রণয়ন করা হয়েছে নতুন ভূমি আইন। এই আইনের মাধ্যমে জমির মালিকদের জন্য চালু হচ্ছে আধুনিক ও ডিজিটাল ‘ভূমি মালিকানা সনদ (CLO)’, যা স্মার্ট কার্ড আকারে ইউনিক নম্বর বা কিউআর কোডযুক্ত হবে। ভবিষ্যতে এই সনদই জমির মালিকানার চূড়ান্ত ও বৈধ দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
নতুন ব্যবস্থায় ভূমি মালিকানা সনদ ব্যবহার করেই খাজনা পরিশোধ করা যাবে। এতে জমি সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ যেমন সহজ হবে, তেমনি জালিয়াতির ঝুঁকিও অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাজনা না দিলে জমি যাবে খাসে
নতুন আইনের সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে খাজনা ব্যবস্থায়। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো জমির খাজনা টানা তিন বছর পরিশোধ না করলে সেই জমি সরকারি মালিকানায় চলে যাবে। অর্থাৎ জমিটি খাস হিসেবে বাজেয়াপ্ত হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আইন) মো. খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জালিয়াতি ও অবৈধ দখলে কঠোর শাস্তি
ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা ও অবৈধ দখল রোধে শাস্তির মাত্রাও বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে জমি দখল বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডই দেওয়া যেতে পারে।
মালিকানা বদলালেই CLO হালনাগাদ বাধ্যতামূলক
নতুন আইনে আরও বলা হয়েছে, জমির মালিকানা পরিবর্তন হলেই দ্রুত ভূমি মালিকানা সনদ হালনাগাদ করতে হবে। জমি হস্তান্তরের পর নামজারি সম্পন্ন করা এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কৃষিজমি রক্ষায় কড়াকড়ি
কৃষিজমি সংরক্ষণে নতুন আইনে কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। দুই বা তিন ফসলি জমি সাধারণভাবে অধিগ্রহণ করা যাবে না। বিশেষ জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারের অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, মালিকানা নিশ্চিতকরণ, খাজনা আদায়ে শৃঙ্খলা এবং কৃষিজমি সুরক্ষায় নতুন ভূমি আইন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাস্তবায়ন হলে দেশজুড়ে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আফরোজা

×